যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেলসেতু নির্মাণের প্রক্রিয়া শুর্ব হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়ার কথাও জানা গেছে রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে। গতকালের সোনালী সংবাদ গুর্বত্ব সহকারে খবরটি প্রকাশ করেছে।
বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হবে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েল গেজের ডাবল লাইন রেলসেতুটি। এজন্য পৃথক নদী শাসন করতে হবে না। জমি অধিগ্রহণও বেশি হবে না। ফলে স্বল্প ব্যয়েই কাজ শেষ হবে। নকশা প্রণয়নসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস’ার (জাইকা) অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের দাবিতে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের অধিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই সোচ্চার। বিশেষ করে গত ঈদ উপলৰে পশ্চিমাঞ্চল রেলের সিডিউল বিপর্যয়ে জনভোগান্তি দাবিটিকে জোরালো করে তুলেছে। কারণ, ধারণ ৰমতার অতিরিক্ত ট্রেন চলাচলে সিডিউল রৰা করা সম্ভব ছিল না। সিঙ্গেল লাইনে বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সেতুর কারণে সব সিডিউলই তছনছ হয়ে গিয়েছিল। ফলে ডাবল লাইনের যমুনা রেলসেতু নির্মাণ উত্তরাঞ্চলের সাথে ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগকে বেগবান করতে গুর্বত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, জোর দিয়েই বলা যায়।
এতে করে শুধু যাত্রী পরিবহনই নয়, পণ্য পরিবহনকেও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করবে। রেল যাত্রায় ভোগান্তি কমবে। এই অঞ্চলের শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি বাড়বে। উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।
তবে এজন্য রেলের পশ্চিমাঞ্চলে ডাবল লাইন স’াপন করতে হবে। রেলের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি জনবল সংকট দূর করাও অপরিহার্য। এছাড়াও রেলসেতু নির্মাণ নির্দিষ্ট সময়েই শেষ করতে হবে। দীর্ঘসূত্রতা নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে তুলবে, বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যমুনা রেলসেতু নির্মাণে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এ বিষয়গুলো নিয়েও তাদের কার্যকর ভূমিকা আশা করাই যায়। বিশেষ করে এ ৰেত্রে রেলপথমন্ত্রী এবং রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্যের ভূমিকা উলেৱখযোগ্য। যমুনা রেলসেতু ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের উন্নয়নে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন বেগবান করতে এ বিষয়গুলোতেও তাদেরসহ সরকারের সুদৃষ্টিই কাম্য।