স্টাফ রিপোর্টার: আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন হয়েছে কিনত্মু সেই তুলনায় আদিবাসীদের উন্নয়ন হয়নি। তাদের দরিদ্রতা কমেনি। তারা নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে। আদিবাসীদের কাছে থেকে যেসব ভূমি দখল করা হয়েছে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়নি। তাই সমতলের আদিবাসীদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আলাদা ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। ভূমি কমিশনের মাধ্যমেই তাদের দখল করা জমি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের ২৬তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলড়্গে রাজশাহীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারম্নজ্জামান জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাঙালি, আদিবাসী, সংখ্যলঘু সম্প্রদায় সবাই একসাথে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রম্নমুক্ত করেছি। যে কারণে সংবিধানে লেখা আছে বাংলাদেশ ধর্মনিরপেড়্গ, অস্প্রাদায়িক রাষ্ট্র। তাই এ দেশের মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। কিন্তু আমরা কয়েকদিন আগে দেখলাম, গোবিন্দগঞ্জে আদিবাসীদের গ্রাম পোড়ানো হলো, ভূমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হলো। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই। রাষ্ট্রকেই এর ন্যায় বিচার করে আদিবাসীদের সুরড়্গা দিতে হবে।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনের টানা তিন বারের এই সংসদ সদস্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীরা অশানত্ম হয়ে উঠেছে। এর জন্য দায়ী মূলত শানিত্ম চুক্তি বাসত্মবায়িত না হওয়া, ভূমি কমিশন গঠন না হওয়া। আদিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধুমাত্র ভূমি কমিশন নয়, এর পাশাপাশি সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করাও খুব দরকার।
বাদশা বলেন, আদিবাসীদের অনেক দাবি এখনো পূরণ হয়নি। এই দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। তাদের যে অন্যতম দাবি শিড়্গার ড়্গেত্রে সেগুলোকে গুরম্নত্ব দিতে হবে। জাতীয় শিড়্গা নীতিতে আদিবাসীদের ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও মাতৃভাষাতে স্কুল প্রতিষ্ঠা এখনো হয়নি। তাদের যে মাতৃভাষায় শিড়্গার দাবি তা পূরণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর ওর্য়াকার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামাণিক দেবু, জেলার সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারম্নল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, আদিবাসী নারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিপি টুডু প্রমূখ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেবব্রম। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। এর আগে বেলা ১১টায় নগরীর আলুপট্টি থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে শহীদ এএইচএম কামারম্নজ্জামান জেলা পরিষদ মিলয়াতনে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।