স্টাফ রিপোর্টার: ট্রাফিক পুলিশ অটোরিকশা জব্দ করার কারণে পরিকল্পিত হামলার শিকার হন রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কনস্টেবল জয় কুমার। হামলাকারী রফিকুল ইসলামকে (৩৬) গ্রেপ্তারের পরই এ ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অটোরিকশা চালক রফিকুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হামলার দায় স্বীকার করেছেন। রফিকুলের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর ছোটবনগ্রাম মহলস্নায়। তার বাবার নাম আবদুর রশীদ।
গত মঙ্গলবার বিকালে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে কনস্টেবল জয় কুমারের ওপর রড নিয়ে হামলা চালানো হয়। আরএমপির পুলিশ লাইনে কর্মরত কনস্টেবল জয় কুমার এ দিন নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে ছিলেন। সেখানে জব্দ করা একটি মোটরসাইকেল ট্রাফিক অফিসে রাখতে এলে হামলার শিকার হন। হামলাকারী তার হাতে থাকা একটি হেলমেট নিয়ে পালিয়েছিলেন।
আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রম্নহুল কুদ্দুস বলেন, রফিকুল রাজশাহীতে নিষিদ্ধ চিকন চাকার অটোরিকশা চালান। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ তার অটোরিকশা জব্দ করে। এতে তিনি অত্যনত্ম ড়্গুদ্ধ হন। প্রচ- রাগের বশবর্তী হয়ে তিনি ভাংড়ী দোকান থেকে একটি রড সংগ্রহ করেন এবং ট্রাফিক অফিসের সামনে যেয়ে অপেড়্গা করতে থাকে। তার লড়্গ্য ছিল, ট্রাফিক পুলিশের যে কাউকে আক্রমণ করা।
ট্রাফিক কার্যালয়ের সামনে জয় কুমারকে পেয়ে রফিকুল রড দিয়ে তার মাথায় ও হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। এ সময় কনস্টেবল তার হাতে থাকা হেলমেট দিয়ে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনা দেখে আশপাাশে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্য ও পথচারীরা ‘ধর’, ‘ধর’ বললে রফিকুল হেলমেটটি কেড়ে নিয়ে দৌড় দেন। এরপর একটি অটোরিকশায় উঠে পালিয়ে যান।
এদিকে আহত পুলিশ কনস্টেবল জয় কুমারকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আর হামলাকারীকে শনাক্ত করে তাকে আটক করতে মাঠে নামেন পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। হামলাকারী রফিকুলের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাকে বাড়ি থেকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হামলার দায় স্বীকার করেন।
আরএমপির মুখপাত্র জানান, রফিকুলের বিরম্নদ্ধে নগরীর রাজপাড়া থানায় মামলা করা হয়েছে। আর তার বাড়ি থেকে পুলিশের হেলমেট এবং তার ব্যবহৃত গেঞ্জি ও প্যান্ট জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া রফিকুলের দেয়া তথ্যমতে রাজশাহী রেলওয়ে অফিসার্স মেসের সামনের ড্রেন থেকে হামলায় ব্যবহৃত রডটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। আর গ্রেপ্তার রফিকুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।