স্টাফ রিপোর্টার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক : ২০১৪ সালের ২ ফেব্রম্নয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ‘বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকোর্স’ বাতিলের দাবিতে গড়ে ওঠা শিড়্গার্থীদের আন্দোলনে হামলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার সকল আসামিকে বেকসুর খালাস দিযেছেন আদালত।
গতকাল মঙ্গলবার দপুরে রাজশাহী মহানগর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সিরাজী শওকত সালেহীন এলেন বলেন, ‘দুর্বল সাক্ষীর কারণে সকল আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছেন। বাদী পক্ষে মোট সাক্ষী ছিলেন ২২ জন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রম্নয়ারি সকাল অনুমান সাড়ে ৯ টা থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিল দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হলে এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবন, একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরী ও উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠি, সোটা, ককটেল, বোমাসহ ক্যাম্পাসকে অসি’তিশীল করার লক্ষে প্রশাসনের ভবনের সামনে ৪/৫ টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ঘটনার পরদিন ৩ ফেব্রম্নয়ারি নগরীর মতিহার থানায় এসআই মাসুদুর রহমান বাদি হয়ে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩ ধারায় ৪৫ জনের নাম উলেস্নখ করে আরও ১০০/১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মতিহার থানার মামলা নং-৪, তারিখ-৩/২/২০১৪ ইং। মামলার তদনত্ম শেষে ২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এবং মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে ৩৪ জনকে আসামি করা হয়।
এদিকে রায় প্রকাশের পর সনেত্মাষ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করেছে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রায়ের প্রতিক্রিয়া উৎসব মোসাদ্দেক বলেন, আদালতে রায়কে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ রায়ের মধ্যদিয়ে এটি প্রমাণিত হয়েছে আমাদের আন্দোলন যুক্তি। সান্ধ্যকোর্স ও বর্ধিত ফি বাতিলের আন্দোলনের রেশ এখনো রয়েছে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নামে বেনামে বর্ধিত ফি আদায় করা হচ্ছে। বহাল তবিয়তে সান্ধ্যকোর্স চলছে। সাধারণ শিড়্গার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।