স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে যমুনা নদীর ওপর বহুল প্রত্যাশিত পৃথক রেল সেতু নির্মাণ কাজে ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হতে চলেছে। গত সপ্তাহে এই প্রকল্পের দু’টি অংশের মধ্যে প্রথমটির মূল্যায়ন শুরম্ন হয়েছে। এটি শেষ হলেই সেতুটি নির্মাণের জন্য এ বছরই বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরই মধ্যে প্রকল্পের স’ান পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে তারা জানিয়েছেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম স্টেশনের কাছেই নির্মাণ করা হবে একটি আসিটি টার্মিনাল। বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের সীমাবদ্ধতা আলোচিত হচ্ছে অনেকদিন ধরেই। জাতীয় সংসদে একাধিকবার যমুনার ওপর আলাদা রেলসেতু নির্মাণের দাবি করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
প্রকল্প দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) খোন্দকার শহীদুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পটি যেহেতু জাইকার সহায়তায় হচ্ছে, সেহেতু এখানে জাপানী প্রতিষ্ঠানই কেবলমাত্র প্রকল্প বাসত্মবায়ন করতে পারবে। আমরা আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর দর নিয়েছি। এখন যাচাই-বাছাই চলছে। তারা এই দর নিয়ে মোটামুটি সন’ষ্ট বলেও জানান।
এদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জল হোসেন জানান, দর মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি শিগগিরই শেষ হবে এবং তারপর এই সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, যাচাই শেষে এ বছরের মধ্যে সংশিস্নষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তারা রেলসেতু নির্মাণের কার্যাদেশ দিতে পারবেন বলে আশা করছেন।
আর খোন্দকার শহিদুল ইসলাম জানান, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিতব্য এই সেতুটির নির্মাণ কাজ দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমটি পূর্বাংশ এবং দ্বিতীয়টি পশ্চিমাংশ। তারা প্রথমটির কার্যাদেশের কাছাকাছি রয়েছেন বলে উলেস্নখ করে তিনি বলেন, দরদাতা জাপানী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা বলেছেন, যে পশ্চিমাংশের মত দিলে সরকার তা বিবেচনায় নিতে পারে। নকশা প্রণয়নসহ যমুনা রেল সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। জাপান আনত্মর্জাতিক সহযোগিতা সংস’ার (জাইকা) অর্থায়নে এটি নির্মাণ করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়।,,,,,,
এর আগে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে দেশের বৃহত্তম এ সেতু নির্মাণসংক্রানত্ম প্রসত্মাবনা অনুমোদন করে সরকার। এরপর পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরম্ন করা হয়। দরপত্রে তিনটি কোম্পানি অংশ নিলেও সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নিয়োগ পায় ওরিয়েন্টাল গেস্নাবাল টেনশন কনসালট্যান্টস।
প্রকল্প প্রসত্মাবনা ডিপিপি তথ্যমতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন রেলসেতু নির্মাণ করা হবে। এ জন্য পৃথক নদী শাসন করতে হবে না। জমি অধিগ্রহণও খুব বেশি দরকার হবে না। এতে ব্যয় অনেক কম হবে। যমুনা রেলসতুর উভয় দিকে ভায়াডাক্ট থাকবে ৫৮০ মিটার।
যমুনা ইকোপার্কের পাশ দিয়ে এটি বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম অংশের রেলপথের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। এজন্য ৬ দশমিক ২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি তিনটি স্টেশন বিল্ডিং, তিনটি পস্ন্যাটফর্ম, তিনটি লেভেল ক্রসিং গেট ও ছয়টি কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। আর এই সেতুর পূর্ব পাশের লুপ লাইনসহ প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার, ১৪টি কালভার্ট ও দু’টি সংযোগ স্টেশন নির্মাণ করতে হবে। এছাড়া ছয় একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, দীর্ঘ দিন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আলাদা রেলসেতুর দাবি করে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। বর্তমানে প্রক্রিয়াটি শুরম্ন হওয়ায় স্বসিত্ম প্রকাশ করেছেন তিনি। বাদশা বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুটি রেল যোগাযোগের জন্য যথেষ্ট নয়। রেল যোগাযোগের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশে আরও একটি রেল সেতু তৈরি করতে হবে। তাই তিনি দীর্ঘ দিন থেকে সংসদে এই দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তিনি বলেন, ‘যমুনার ওপর আলাদা রেলসেতু হলে একদিকে যেমন রাজশাহীসহ সারা উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ ব্যবস’া আরও বেগবান হবে অপরদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপরে চাপও কমবে। তাই আমি মহান সংসদে পৃথক রেল সেতু নির্মাণের দাবি উত্থাপন করেছি। আলাদা রেলসেতু হলে কৃষি সমৃদ্ধ রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে বলেও মনত্মব্য করেন এই সংসদ সদস্য।