এফএনএস: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবী জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দন্ডিত পালাতক খুনিদের দেশে ফেরত আনার পদক্ষেপ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এই দাবী জানান। কেন্দ্রীয় ১৪ দল এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দ্রম্নততম সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে চিহ্নিত ও দন্ডিত খুনিদের রায় বাসত্মবায়ন ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সকলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের সামনে এই সকল চিহ্নিত খুনি ও এই ঘটনার ইন্ধনদাতাদের মুখোশ উন্মোচিত করতে হবে। আলোচনায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, কানাডার আইনে মৃত্যুদ- নেই। যদি কোনো দেশের মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি সেখানে (কানাডা) গিয়ে আশ্রয় নেয় তাহলে তারা তাকে রেখে দেয়। তবে কানাডায় নূর চৌধুরীকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি। আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য কানাডার সঙ্গে আলাপ আলোচনা করছি। আইনি এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। একটু সময় হয়তো লাগবে। তবে কানাডা সরকার তাকে ফেরত দেবে। আর রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে আগের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেড়েছে। অন্য চারজন যাদের খবর পাওয়া যাচ্ছে না, আমরা কিন’ তাদের খুঁজে বের করার ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চেষ্টার কোনো ত্রম্নটি নেই। অনেক কথা এখন বলা যাবে না। তবে আমাদের কাজ যেভাবে চলছে আমরা তাদের খুঁজে বের করে ফিরিয়ে আনতে সফল হবো। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনের নেপথ্যে কারা জড়িত ছিলো তাদের চিহ্নিত করতে একটি কমিশন করার ব্যাপারে আমরা সিদ্ধানত্ম নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদে এ ব্যাপারে সিদ্ধানত্ম নেবেন। কমিশনে কারা থাকবেন, কার্যপরিধি কী হবে সেটা আলোচনা করা হবে। এই কমিশনের কাজ হবে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট এবং ৩ নভেম্বরের নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল- তাদের খুঁজে বের করা। খুনিদের ফিরিয়ে আনা বা অন্য বিষয়ের সঙ্গে এই কমিশনকে যুক্ত করতে চাই না। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছে। আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সাহায্য চেয়েছি রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে। তারা আমাকে বলেছেন- ও (রাশেদ চৌধুরী) কি ওই নামে আছে, না ডেভিড নামে আছে? নূর চৌধুরী কানাডায় আছে। আমি কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও বলেছি, কোর্ট তো তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়নি, তাকে ফিরিয়ে দিন। তিনি বলেছেন, আলাপ আলোচনা চালিয়ে যান। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছেন। আশা করি নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দিন খান বাদল, সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাংবাদিক আবদুল কাউয়ুম মুকুল, আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, ব্যারিস্টার বিপস্নব বড়ুয়া প্রমুখ।