স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ৭১ সদস্য বিশিষ্ট। এর মধ্যে প্রয়াত হয়েছেন পাঁচজন। বহিষ্কৃত হয়েছেন তিনজন। বাকি থাকে ৬৩ জন। এদের মধ্যে মাত্র ১০ জন সাড়া দিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এমপি ওমর ফারম্নক চৌধুরীর ডাকে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ সম্প্রতি ওমর ফারম্নক চৌধুরীকে ‘রাজাকারপুত্র’ বলেছেন। এছাড়া ফারম্নক চৌধুরী ছাত্রজীবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দল ‘ফ্রিডম পার্টি’ করতেন বলে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত একটি দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
এই অবস্থায় করণীয় ঠিক করতে গতকাল সোমবার রাজশাহী মহানগরীর একটি অভিজাত রেসেত্মারাঁয় জরম্নরি সভা ডাকেন ওমর ফারম্নক চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন জানান, সভায় জেলা আওয়ামী লীগের চারজন উপদেষ্টা, একজন সহ-সভাপতি, দুইজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তবে চারজন উপদেষ্টা বাদ দিলে মূল কমিটির উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১০ জন।
এছাড়া সভায় ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাবেক এমপি কাজী আবদুল ওয়াদুদ দারা। জেলা কমিটির সবাইকে ডাকা হলেও অন্যরা আসেননি। তবে আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসহ তানোর-গোদাগাড়ীর উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় যারা উপস্থিত হয়েছিলেন তারা সবাই ফারম্নক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে এ সভায় তাদের অনেকেই ওমর ফারম্নক চৌধুরীর সমালোচনা করেছেন। জানিয়েছেন তাকে নিয়ে নিজেদের ড়্গোভের কথাও। ওমর ফারম্নক চৌধুরী সভাপতি হলেও গত ২২ মাস ধরে জেলা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। এ নিয়েও সভায় ড়্গোভ প্রকাশ করেছেন তার অনুসারীরাও।
সভার শুরম্নতেই বক্তব্যে রাখেন ওমর ফারম্নক চৌধুরী। তিনি বলেন, বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে যাওয়া যায় না। সেখানে নেতা-কর্মীদের বিরম্নদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র, কুৎসা রটানোসহ শুধু আজে-বাজে কাজ করা হয়। সেখানে যাবার কোনো পরিবেশ নেই। তাই তিনি সেখানে যান না।
তবে এ প্রসঙ্গে সভায় জেলার মোহনপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন কবিরাজ ওমর ফারম্নক চৌধুরীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, লক্ষ্মীপুর (জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়) ভালো না। তাই আপনি কর্মসূচিতে যান না। কিন্তু সভাপতি হিসেবে আপনি অন্য কোথাও কর্মসূচি পালনের আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি। এটা দলের জন্য ভালো হয়নি।
জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট প্রশানত্ম কুমার বলেন, নেতায় নেতায় বিভেদের কারণে দল ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছে। তাই এখনই আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মৃত্যুর আগে আমি ঐক্যবদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগ দেখতে চাই। তা না হলে যা চলছে তাতে দল ভীষণভাবে ড়্গতিগ্রসত্ম হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রায় সবাই বলেছেন সভাপতি হওয়ার পর ওমর ফারম্নক চৌধুরীর আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিলো। কিন্তু তা না হয়ে তিনি জেলা আওয়ামী লীগে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। এতে তার নিজের এবং দলের ড়্গতি হয়েছে। ওমর ফারম্নক চৌধুরী এ সময় ভবিষ্যতে সক্রিয় থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
সভায় নেতাদের উপস্থিতি কম বিষয়ে জানতে ওমর ফারম্নক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্টজন হিসেবে পরিচিত জেলা কমিটির একজন সদস্য জানান, সভাপতির আহবান করা সভায় না যাওয়ার জন্য সাধারণ সম্পাদক সবাইকে ফোন দিয়েছেন। সে কারণে হয়তো সভাপতির সভায় নেতাদের উপস্থিতি কম হয়েছে।
তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। তিনি বলেন, এই সভার বিষয়ে আমি জানতামই না। আর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি একক ক্ষমতা বলে জেলার সভা ডাকতে পারেন না। এছাড়াও সভায় তিন ভাগের এক ভাগ সদস্যের উপস্থিতি লাগবে। তবেই সেটি কার্যনির্বাহী সভা বলা যাবে। এটি কী ধরনের সভা সেটা আয়োজকই ভালো বলতে পারবেন।