এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের নৌবাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফাহাদ বিন আব্দুলস্নাহ গোফাইলি। গতকাল সোমবার বিকালে গণভবনে সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রেস সচিব বলেন, সাক্ষাতে রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সৌদি নৌপ্রধান আলোচনা করেন। শেখ হাসিনা ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিস্পত্তির বিষয় উলেস্নখ করেন। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয়দের ছাড়িয়ে গেছে। সাক্ষাতে ফাহাদ বিন আব্দুলস্নাহ গোফাইলী দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেন ফাহাদ বিন আবদুলস্নাহ গোফাইলী। সাক্ষাতে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নৌবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ: তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় এসে সৌদি নৌবাহিনী প্রধান ফাহাদ বিন আব্দুলস্নাহ আল-গোফাইলি গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর বনানীর নৌসদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এর আগে, তিনি নৌসদরে এসে পৌঁছালে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মকবুল হোসেন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রধান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। শনিবার তিন দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় আসেন সৌদি নৌপ্রধান।
সাক্ষাতকালে সৌদি নৌপ্রধান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরীর সঙ্গে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান বন্ধুপ্রতিম দু’দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্কের কথা উলেস্নখ করেন এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য ভাইস অ্যাডমিরাল ফাহাদ বিন আব্দুলস্নাহ আল-গোফায়েলিকে আনত্মরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে তারা দু’দেশের নৌসদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সংক্রানত্ম বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা-ে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করেন। সেইসঙ্গে নৌবাহিনী প্রধান জাহাজ নির্মাণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয় সৌদি নৌপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি দু’দেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে জাহাজসমূহের শুভেচ্ছা সফর আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তিনি নৌসদরে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।
সৌদি নৌপ্রধানের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সাপস্নাই বিভাগের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল এমদাদ বিন ওমর আল-খাত্তাব, অপারেশন্স বিভাগের প্রধান কমডোর সাদ বিন আব্দুলস্নাহ আল-আমরি, গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান কমডোর মনসুর বিন সৌদ আলজুয়াইদ, প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক কমডোর মনসুর বিন নাজা আলওতাইবি, ওয়েস্টার্ন ফ্লিটের প্রধান কমডোর মাতার বিন সালাহ আলমাতরাফি ও পাবলিক রিলেশন অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড পরিদপ্তরের প্রধান কমান্ডার আবদুলস্নাহ বিন ফাহাদ আলওয়াহিদ। সাক্ষাত শেষে সৌদি নৌপ্রধানকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রমের ওপর ব্রিফিং দেওয়া হয়।
এ সময় নৌ সদরের পিএসও, সফররত প্রতিনিধিদল, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ও নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ কর্মকর্তা (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সৌদি নৌপ্রধান। সফর শেষে আজ মঙ্গলবার সৌদি নৌপ্রধানের ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।