স্টাফ রিপোর্টার: লেকের পানির ওপর ঘাসের আসত্মরণ। আর ঘাসের নিচে স্বচ্ছ পানি। ঘাসের ফাঁকে ফাঁকে পানিতে বসে আছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। ঘটছে বংশ বিসত্মার। রাজশাহী মহানগরীতে এমনই একটি ‘মশার খামার’ পাওয়া গেছে।
নগরীর অভিজাত পদ্মা আবাসিক এলাকায় এই মশার খামারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এটি একটি লেক। ভারত সরকারের অর্থায়নে লেকটির সংস্কার কাজ শুরম্ন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। কিন্তু সংস্কার কাজের অব্যবস্থাপনার কারণে এই লেকটিই এখন মশার খামারে পরিণত হয়েছে।
এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি লেকটি হয়ে উঠেছে মশার প্রজননক্ষেত্র। আর তা ছড়িয়ে পড়ছে আবাসিক এলাকার বাসাবাড়িতে। এলাকায় প্রতিনিয়তই বাড়ছে মশার উপদ্রব। ডেঙ্গুর ভয়াবহতার এই সময়ে এডিস মশা বিসত্মারের শঙ্কায় আতঙ্কিত এলাকার বাসিন্দারা।
গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা আবাসিক এলাকায় গোটা লেকটিই আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। পানির ওপরে আগাছা, ঘাস এবং কচুরিপানাও রয়েছে। অভিজাত এলাকাটির পাশেই থাকা ভদ্রা বসিত্মর বাসিন্দাদের গোসলের স্থান এই লেক। আবর্জনা আর কচুরিপানার ফাঁকের অংশগুলোতে ময়লাযুক্ত পানিতেই গোসল সারছেন বাসিন্দারা। এতে ছড়াচ্ছে রোগবালাই।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, আশপাশে তেমন পানির ব্যবস্থা নাই। তাই এ জাগাতেই নামি গোসল করতে। পানি ময়লা হলেও করার কিছু নাই। এই পানি দিয়েই বাড়ির অনেক কাজ করতে হয়। আবার ময়লার কারণে মশারা ভিন ভিন করে। রাত-দিন সেই মশা জ্বালায় আমাদের। মশা মারারও উদ্যোগ দেখি না।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য বলেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা স্বচ্ছ পানিতে জন্মে। লেকে স্বচ্ছ পানি থাকলে এডিসের বংশবিসত্মার ঘটতে পারে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে পানির নমুনা সংগ্রহ করে লার্ভার উপস্থিতি পরীড়্গা করে দেখছেন। এই লেকেরও পানি সংগ্রহ করা হবে।
সূত্র জানায়, গত বছরের জানুয়ারির দিকে পদ্মা আবাসিক এলাকার লেকটির পাড় বাঁধাই কাজ হাতে নেয় রাসিক। ভারতের অর্থায়নে এই কাজ এখনো চলছে। বৃষ্টিতে লেকের পানি বাড়ছে। লেকটির পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার ময়লা আবর্জনার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতারও কোনো উদ্যোগ নেই। এই ফাঁকে লেকটিতে আবাস গেড়ে বংশ বাড়িয়ে চলেছে মশা। অন্যান্য প্রজাতির সঙ্গে ডেঙ্গু রোগবাহী এডিস মশারও বংশবিসত্মার হচ্ছে এখান থেকে, এমন শঙ্কা স্থানীয়দের।
মাজদার হোসেন নামে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি বলেন, প্রচুর টাকা ব্যয় করে লেকটির সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে। কিন্তু কাজটি দীর্ঘ দিনেও শেষ হচ্ছে না। এখানে পানি পরিষ্কার রাখার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাহলে বাইরের এই সৌন্দর্য দিয়ে কী হবে! পানির ওপরের আবর্জনা আর ঝাঁকে ঝাঁকে মশা দেখে আমরা আতঙ্কিত। তাই দ্রম্নত এটি পরিষ্কার করে আমাদের আতঙ্কমুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
জানতে চাইলে রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, লেকটির পানি ময়লাযুক্ত কি না তা আমাদের জানা নেই। বাসত্মবে তা হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।