দেশের উন্নয়ন হচ্ছে সেটা দেখাই যায়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় আয় বাড়ছে। দৃশ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এর পাশাপাশি শিৰা, স্বাসে’্যর উন্নয়নও হচ্ছে, তবে তা কতটা মানসম্পন্ন সে প্রশ্ন রয়েছে। আর উন্নয়ন যদি মানুষের জন্য না হয় তবে তা টেকসই হবে না। বাড়বে বৈষম্য। সৃষ্টি হবে অসি’রতা, নৈরাজ্য। এসব কথা উঠে এসেছে সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে।
ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘উন্নয়ন, বঞ্চনা ও অসমতা’ শীর্ষক সেমিনারে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিকসহ বক্তারা চলমান উন্নয়ন ধারা পর্যালোচনা করেন। তারা অব্যাহত উন্নয়ন স্বীকার করে এর ফল যে সমাজের ১০ শতাংশ মানুষের হাতে গিয়ে পড়ছে সেটাও বলেছেন। মুষ্টিমেয় লোকের হাতে সম্পদ কুৰিগত হওয়ায় সমাজে পাহাড়সম অসমতায় সামাজিক অসি’রতা যে বাড়বে সে আশঙ্কার কথাও শোনা গেছে সেখানে।
উন্নয়নকে সমতাভিত্তিক করতে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের ওপর জোর দিয়ে বক্তারা ৪৮ বছরেও ভূমি ও কৃষি সংস্কার না হওয়ায় উন্নয়নের সুফল সবার ঘরে পৌঁছবে না বলে মতপ্রকাশ করেছেন। সমতাভিত্তিক উন্নয়নের জন্য শিল্প, স্বাস’্যসহ সকল ৰেত্রে বাজার ব্যবস’ার দৌরাত্ম্য বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে না সব শ্রেণির মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের সুফল থেকে বঞ্চিত হবে দেশ। এ জন্য প্রথমেই সরকার ও সংসদে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।
মুক্তিযুদ্ধের পৰের এবং শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দল হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টিকেই এ বিষয়ে পরিকল্পিত পদৰেপ গ্রহণ করতে হবে সেটাও উচ্চারিত হয়েছে সেমিনারে বক্তাদের মুখে। সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্ব ছাড়া সংসদ ও সরকারের পৰে জনগণের আকাঙৰা পূরণে কার্যকর ভূমিকা পালন যে সম্ভব নয় সেটা বলাই বাহুল্য। তবে এ লৰ্য অর্জনে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে হবে। একমাত্র তখনই উন্নয়নের সুফল মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে। উন্নয়নও টেকসই হবে।