এফএনএস: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় চুন ঢেলে চোখ উপড়ে ফেলায় অ্যাসিড সন্ত্রাস দমন আইনে ১০ আসামির যাবজ্জীবন কারাদ- দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সেশন জজ ও অ্যাসিড দমন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রাশেদুজ্জামান রাজা এ রায় দেন।
দ-প্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের গোয়া-ইনঘাট উপজেলার রাউতগ্রামের আবদুস সালাম, মো. নুর্বল মিয়া, আলতাব মিয়া, র্ববেল মিয়া, সামসুল ইসলাম সাদ্দাম, আবদুর রহিম, আয়াত উদ্দিন, মাসুক মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও আবদুর রহিম। এদের মধ্যে দ-প্রাপ্ত র্ববেল পলাতক রয়েছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গোয়াইন-ঘাট উপজেলার রাউতগ্রামে সরকারি খাস জমিতে বাড়ি বানিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন জমির উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা। বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টারত ছিল আসামিরা। এ ঘটনার বাদীর সঙ্গে আসামিদের মামলাও চলমান ছিল। মামলা দিয়ে উচ্ছেদ করতে না পেরে ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় গোয়াইঘাটের উত্তর রাউত-গ্রামের আবদুল মৃত জব্বারের ছেলে জমির উদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে আসামিরা। এ ঘটনায় জমির ও তার ভাইয়েরা গুর্বতর আহত হন। আসামিরা বাদীর ভাই আজির উদ্দিন ও আলাউদ্দিনের চোখে চুন ঢেলে দিয়ে চোখ নষ্ট করে দেয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩ এপ্রিল জমির বাদী হয়ে গোয়াইঘাট থানায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে সংঘঠিত ঘটনায় ১০ জনের বির্বদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এসআই মো. হাবিবুর রহমান। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর অ্যাসিড নিক্ষে-পের ঘটনায় ওই ১০ আসামির বির্বদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই হাবিবুর। এ ঘটনায় পুলিশ নয় আসামিকে গ্রেফতার করে।
মামলাটি অ্যাসিড সন্ত্রাস নির্মূল দমন ট্রাইব্যুনালে স’ানান্তরের পর ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বির্বদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার কার্যক্রম শুর্ব হয়। মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পরে আদালত ২০০২ সালের অ্যাডিস সন্ত্রাস দমন আইনে আসামিদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা ভিকটিমদ্বয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক। এ ছাড়া পলাতক আসামির বির্বদ্ধে ওয়ারেন্ট তামিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামসুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।