স্টাফ রিপোর্টার: অবশেষে রাজশাহীর সংরড়্গিত পুরাকীর্তি বড়কুঠি ছাড়লেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী। গতকাল রোববার প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একজন কাস্টডিয়ান ও একজন প্রকৌশলীসহ ছয় সদস্যের একটি দল রাজশাহীতে আসেন। তারা ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পড়্গে দখলমুক্ত করার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে চিঠি দেন। এর ভেতরে বসবাসকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তার মালামাল সরিয়ে নেন। কিন্তু এর চাবি হসত্মানত্মর করা হয়নি।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বড়কুঠির প্রত্নতাত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরম্নত্ব বিবেচনা করে সরকার গত বছর ৩ মে রাজশাহীর বড়কুঠিকে সংরড়্গিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে গত বছর ২১ জুন জারিকৃত সংরড়্গণ সম্পর্কীয় প্রজ্ঞাপন বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৬ জুলাই এই ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের পড়্গে দখলমুক্ত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু এই চিঠির পরিপেড়্গিতে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। অধিকনত্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী পরিবার পরিজন নিয়ে এই সংরড়্গিত পুরাকীর্তির ভেতরে বসবাস করছিলেন।
শুধু তাই নয়, এই পুরাকীর্তিকে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। গত শুক্রবার এই ভবনটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের একজন কর্মচারীর মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা মাত্র এক হাজার টাকায় এটি ভাড়া দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে গত শনিবার ‘বড়কুঠি এখন কমিউনিটি সেন্টার!’ শিরোনামে দৈনিক সোনালী সংবাদের প্রধান সংবাদ ছাপা হয়। এরপর কর্তৃপড়্গের টনক নড়ে।
গতকাল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের রংপুর কাস্টডিয়ান অফিস থেকে কাস্টডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরম্নলের নেতৃত্বে একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও চারজন মালি রাজশাহীতে আসেন। মালিরা এসে ভবনটি পরিষ্কার করার কাজ শুরম্ন করেন। তবে এটি সংষ্কার এবং সংরড়্গণের জন্য এই ভবনের একটি নকশা তৈরি করার জন্য সকাল থেকেই তারা বসেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গের অনুমতি না থাকায় কর্মচারীরা এই ভবনের চাবি হনত্মানত্মর করেননি।
আবু সাইদ বলেন, দীর্ঘদিন মেরামত না করায় ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো সময় এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য ভেতরে বসবাসকারী কর্মচারীর পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ভবনটি জরম্নরি ভিত্তিতে সংষ্কার ও সংরড়্গণ করা দরকার। চলতি অর্থ বছরেই ড়্গতিগ্রসত্ম স্থানগুলো সংষ্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। তবে চাবি না পেয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের লোকজন ভেতরের ড্রয়িংয়ের কাজ শুরম্ন রতে পারেননি।
গতকাল বিকেল ৫টার সময় আবু সাইদ বলেন, আজকের দিন শেষ হয়ে গেছে। তারা চলে যাচ্ছেন। আপাতত মাহবুবুর রহমান ও শাহজাহান আলী নামের দুইজন মালি কাম প্রহরী এর দায়িত্বে থাকবেন। আর প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে ভবনটি হসত্মানত্মরের বিষয়টি ঠিক করবেন।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের লোকেরা তার কাছে এসেছিলেন। তাদের চিঠিটা ভাসাভাসা। গেজেটসহ সুনির্দিষ্ট চিঠি নিয়ে আসার জন্য তিনি বলেছেন। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, সংরড়্গিত পুরাকীর্তির ভেতরে এ ধরনের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না। চাবি দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিকিৎসকের কাছে থাকার কারণে কথা বলতে পারেননি।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোনো এক সময় ডাচ ব্যবসায়ীরা বড়কুঠি ভবন নির্মাণ করে। ব্যবসায়ীদের কাছে এটা ‘ডাচ ফ্যাক্টরি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশভাগের পর ১৯৫১ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে বড়কুঠি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয় এবং খাদ্য বিভাগের অফিস হিসেবে ব্যবহূত হতে থাকে। ১৯৫৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হলে বড়কুঠি বিশ্ববিদ্যালয়কে হসত্মানত্মর করা হয়। সম্প্রতি এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে হসত্মানত্মরের সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গ।