স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর সড়কে যানবাহনের নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) নামের একটি সামাজিক সংগঠন। গতকাল রোববার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক ও মহানগর পুলিশের কমিশনারকে আলাদা আলাদাভাবে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়।
যানবাহনের নৈরাজ্য দূর করতে স্মারকলিপিতে মোট সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী নগরীর রাস্তায় যত্রতত্রভাবে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত সকল প্রকার যানবাহনের স্টপেজগুলোকে অবিলম্বে অপসারণ এবং শিরোইল বাস র্টামিনাল ও ঢাকা বাস টার্মিনালকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনালে স’ানান্তরের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে যে, যানজট নিরসন ও যাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদানে নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় ৭ দশমিক ৪১ একর জায়গার ওপর সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০৪ সালে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। টার্মিনালটিতে একসঙ্গে প্রায় ৫০০টি বাস দাঁড়াতে পারে। ২০১১ সালের জুনে পরিবহন মালিকদের কাছে টার্মিনালটি হস্তান্তরও করে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। উদ্দেশ্য ছিল, নগরীর ভেতরে অবসি’ত শিরোইল বাস টার্মিনাল সরিয়ে শহরের বাইরে স’াপন করা। কিন’ এরপর প্রায় ১৫ বছর পার হলেও নওদাপাড়া বাস স্ট্যান্ডটি এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। টার্মিনালটি শুধুই বাস দাঁড়ানোর জন্য যেন এখন গ্যারেজে পরিণত হয়েছে।
নওদাপাড়া থেকে বাস ছাড়লেও নগরীর ভদ্রা গোলচত্বরে এসে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী উঠানো হচ্ছে। ভদ্রা গোলচত্বরটিকে এখন বানানো হয়েছে বাস টার্মিনাল। রাতদিন এখানে বাস দাঁড়িয়ে থেকে হর্ন বাজাচ্ছে সজোরে। আর পাশেই অবসি’ত অভিজাত পদ্মা আবাসিক এলাকার মানুষরা পড়ছেন শব্দ দূষণে। আবার পথচারিসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে গিয়েই নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাস্তা দখল করে শুধু এই টার্মিনালই নয়, তালাইমারী মোড়, বিন্দুর মোড় ও গ্রেটার রোড রেল ভবনের মূল প্রবেশ পথ, বহরমপুর সিটি বাইপাস মোড়সহ নগরীর বিভিন্ন প্রবেশদ্বারের মুখে রাস্তার ওপরে গড়ে তোলা অস’ায়ী টার্মিনালের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কোনো কোনো সময় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এছাড়া নগরীর রেলগেট এলাকায় রেল ভবনের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী-নওগাঁ ও রাজশাহীর তানোর ও বাগমারা উপজেলায় চলাচলকারী বাসগুলো যাত্রী উঠাতে দাঁড়িয়ে থাকে। তার পাশেই রাস্তার ওপরেই রয়েছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলারের স্টপেজ। এগুলোর কারণে সেখানে যানজট যেন লেগেই থাকছে। বিশেষ করে সকালে যানজট অসহনীয় হয়ে ওঠে।
স্বারকলিপিতে আরো বলা হয়েছে, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন-ভদ্রা সড়কের দু’ধার দিয়ে রাস্তা দখল করে পাশাপাশি দু’লেনে এলোমেলো করে বাস রাখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেখানেই রীতিমত বাসগুলোর ধোয়ামোছা ও মেরামতের কাজও করা হচ্ছে। সড়ক দখল করে যাত্রী ওঠানামা ছাড়াও মেরামত ও ধোয়ার কাজ করায় সড়কের স’ায়ীত্ব কমছে। এক জায়গায় সবসময় ভেজা থাকার কারণে সড়কের বিটুমিন নষ্ট হয়ে পাথর উঠে যাচ্ছে। রাস্তায় খানাখন্দের পরিমাণ বাড়ছে। অন্যদিকে রাস্তার দু’ধার দিয়ে পথচারীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত করার জন্য গড়ে তোলা ফুটপাতও রয়েছে এসব পরিবহণ কর্মচারী ও ফুটপাত ব্যবসায়ীদের দখলে। এতে করে এ রাস্তায় প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে দূর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে।
স্মারকলিপিতে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে সেগুলো হলো- যত্রতত্র গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত স্টপেজগুলোকে অবিলম্বে অপসারণ এবং শিরোইল বাস র্টামিনাল ও ঢাকা বাস র্টামিনালকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল এ স’ানান্তর, শহরের ভেতর দিয়ে দূরপালৱার বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহণ চলাচল বন্ধ, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, ট্রাফিক আইন অনুযায়ী লেন মেনে সকল যানবাহনের চলাচল নিশ্চিত, যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রী উঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধ; নগরীর প্রতিটি স’ানে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স’াপন এবং দৃশ্যমান স’ানে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত নির্দেশিকা প্রদান ও এ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচারণা।
স্মারকলিপি পাওয়ার পর এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস’া গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়র্বজ্জামান লিটন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হুমায়ুন কবীর। তর্বণ সংগঠন ইয়্যাসের সভাপতি শামীউল আলীম শাওন ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম আকাশের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তাদের স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইয়্যাসের অর্থ সম্পাদক আতিকুর রহমান আতিক, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলাইমান হোসেন রকি ও সাধারণ সদস্য রিনা খাতুন।