এফএনএস: ঢাকায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের যাত্রাপথে হাতবোমা নিক্ষেপে তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী মুনাফাভিত্তিক মার্কিন ওয়েবসাইট ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স’ এই তথ্য জানিয়েছে। সাইট ইন্টেলিজেন্সে আরবি ভাষায় প্রকাশিত বিবৃতিতে আইএস জানায়, ‘১৪৪১ হিজরির ১ মহররম খিলাফতের এক সেনা দুই জন পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। এতে তারা অনেক আহত হয়। আমরা আলস্নাহর কাছে তাদের ধ্বংস প্রার্থনা করি।’
গত শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এলাকায় এই হামলা হয় বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আহত পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই-এবি) শাহাবুদ্দিন (৪০) এবং ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত শাহাবুদ্দিনের হাঁটুর নিচে এবং আমিনুলের হাতে জখম হয়েছে বলে মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানিয়েছেন।
ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার শাহেদুজ্জামান বলেন, এলজিআরডি মন্ত্রীর প্রটেকশনের দায়িত্বে ছিলেন শাহাবুদ্দিন। মন্ত্রীর গাড়ি যানজটে আটকা পড়ায় তিনি গাড়ি থেকে নেমে ট্রাফিক কনস্টেবল আমিনুলের পাশে এসে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছিলেন। এ সময় একটি ককটেল শাহাবুদ্দিনের পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়। ককটেলটি ওভারব্রিজের উপর থেকে ছোঁড়া হয়েছে বলে শাহাবুদ্দিন ধারণা করছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, মন্ত্রী ওই সময় ধানম-ির দিকে যাচ্ছিলেন। সায়েন্স ল্যাব মোড় পেরিয়ে সিটি কলেজের সামনের রাসত্মায় ঢোকার আগে যানজটে পড়ে তাদের গাড়ি। তখন প্রটেকশনের গাড়ি থেকে নেমে শাহাবুদ্দিন যানজট সরাতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে একটি বিস্ফোরণ ঘটে তিনি আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পর মন্ত্রী তাজুল ইসলাম তাদের দেখতে ঢাকা মেডিকেলে যান বলে জানিয়েছেন তিনি। বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। পরে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশকে লক্ষ্য করেই সায়েন্স ল্যাবে ককটেল হামলা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, মনে হয় না, আমার গাড়ি টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করেই হামলাটি চালানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে মন্ত্রী জানান, যানজট থাকায় তার প্রটেকশনের গাড়ি থেকে নেমে গিয়েছিলেন এএসআই শাহাবুদ্দিন। ওরা অনেক সময় হয় কী, সাধারণত ট্রাফিক জ্যাম থাকলে নেমে ট্রাফিক পুলিশের সাথে কথা বলে বা নিজেরা একটু ক্লিয়ার করে। শাহাবুদ্দিন নেমে ১০০ গজের মতো দূরে গিয়েছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বঙের ওখানে, ওখানে আরও পাঁচ-সাতজন পুলিশ ছিল। ওখানেই একটা ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের আওয়াজ পেলেও সেটা যে ককটেল হামলা তা তখন বুঝতে পারেননি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আসলে আমি তখন জানি না। কারণ আমি যে অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম সে অনুষ্ঠান ছিল খুব কাছে। যার জন্য গাড়িতে অন্যান্য যে পুলিশ ছিল তারাও বোঝে নাই যে, এ রকম ঘটনা। আমি গাড়িতে যে আওয়াজটা শুনলাম তখন জিজ্ঞেস করলাম বোমা ফুটল না কি চাকা বার্স্ট হয়েছে? তখন বলল, স্যার কোনো গাড়ির চাকা বার্স্ট হয়েছে। পরে পুলিশের কন্ট্রোল রম্নম থেকে তাকে এই হামলার খবর জানানো হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, যখন অনুষ্ঠানস্থলে গিয়ে নামলাম তখন গানম্যান বলল, কন্ট্রোল রম্নম থেকে জানানো হয়েছে যে, বোমা বার্স্ট হয়েছে। আমি যেখানে থাকি যেন এলাকা থেকে সরে যাই। পরে হামলায় নিজের প্রটেকশনের কর্মকর্তার আহত হওয়ার খবর জানতে পারেন বলে জানান তিনি। যারা দেশে অস্থিরতা তৈরি করে সুবিধা নিতে চায়, তারাই এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারিও সেখানে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জাবেদ পাটোয়ারি সাংবাদিকদের বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা তদনত্ম না করে বলা যাবে না। কেননা আহত শাহাবুদ্দিনের সেখানে ডিউটি ছিল না। ইতোমধ্যে পুলিশের সংশিস্নষ্ট বিভাগ কাজ শুরম্ন করেছে বলে জানান তিনি। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, সরকারের উন্নয়নের গতিধারায় বাঁধা সৃষ্টি করতে এই হামলা। আগের হামলার সাথে এটার মিল রয়েছে। কারা এটা ঘটিয়েছে তা তদনত্ম করে দেখা হচ্ছে। এই হামলার পর সারা দেশে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে বলে বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
মামলা: রাজধানীর মিরপুর রোডের সায়েন্সল্যাব মোড়ে যানজটে পড়া স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের নিরাপত্তায় নিয়োজিত (প্রটেকশন) পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিউমার্কেট থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরম্নল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলাটি (নম্বর-১৩) দায়ের করেন। গতকাল রোববার সকালে মামলার বিষয়টি জানান নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদনত্ম) মো. শের আলম। তিনি জানান, পুলিশকে লক্ষ্য করে হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এসআই জহিরম্নল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি তদনত্মভার দেওয়া হয়েছে থানার এসআই মো. আলমগীর হোসেন মজুমদারকে। মামলার তদনত্ম চলছে, তদনত্ম শেষে এ বিষয়ে বিসত্মারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।