স্টাফ রিপোর্টার: যাত্রীর অভাবে এক সময় বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ঢাকা-রাজশাহী রম্নটে বিমানসহ সকল ফ্লাইট। এখন দিন পাল্টেছে। ঢাকা-রাজশাহী রম্নটে এখন প্রতিদিন যাতায়াত করে ৩টি ফ্লাইট। তারপরেও এই রম্নটে টিকিট পাওয়া ভার। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে রাজশাহীও এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের পথে।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর সাথে ঢাকার যোগাযোগ সহজ করতে ১৯৮৪ সালের ১০ জানুয়ারি রাজশাহী বিমান বন্দরের উদ্বোধন করা হয়। এসময় থেকে বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে ২/৩ দিন করে ঢাকা- রাজশাহী রম্নটে যাতায়াত করলেও ঠিকমত যাত্রী না পাওয়ায় বিমানকে লোকসান দিতে হয়। এই অবস্থায় যাত্রী সংকটে ২০০৭ সালে এই রম্নটে বিমানের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে এই রম্নটে বেসরকারি সংস্থা এয়ার পারাবত এবং জিএমজি যাত্রী পরিবহন শুরম্ন করলেও ৫ মাসের মাথায় এয়ার পারাবত ও ৪ বছরের মাথায় জিএমজি এয়ার লাইন্স যাত্রী সংকটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়। এই রম্নটে ২০১১ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর পর্যনত্ম যাত্রী পরিবহন করে ইউনাইটেড এয়ার লাইন্স। শিল্পে পিছিয়ে পড়া কৃষি নির্ভর এই এলাকার সাথে আকাশ পথে ঢাকার যোগাযোগ বারবার বন্ধ হয়েছে মুলত: যাত্রী সংকটের কারনে।
২০১৫ সালে এসে ঘুরে দাড়ায় রাজশাহী। উন্নয়নের পথে এগুতে থাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে পালস্না দিয়ে। ব্যসত্ম হয়ে উঠে রাজশাহীর আকাশপথও। ২০১৫ সালের ৭ এপ্রিল থেকে রাজশাহী রম্নটে বাংলাদেশ বিমানের মেঘদুত ও ময়ুরপঙ্খি আবারো যাত্রী পরিবহন শুরম্ন করে। তৎকালিন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এর উদ্বোধন করেন। একই বছরের ১১ জুলাই থেকে ইউএস বাংলা এবং ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে নভোএয়ার ঢাকা -রাজশাহী রম্নটে যাত্রী পরিবহন শুরম্ন করে। এরপরে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। যাত্রীর চাপে বৃদ্ধি পেয়েছে ফ্লাইটও। বর্তমানে ঢাকা- রাজশাহী রম্নটে প্রতিদিন বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার তিনবার যাত্রী নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। যার প্রতিটিতে আসন সংখ্যা ৬৮ থেকে ৭৪টি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের অভ্যনত্মরে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রম্নত ও নিরাপদ হওয়ায় যাত্রীদের আগ্রহ বাড়ছে। সড়ক ও রেলপথে ভোগানিত্ম, দুর্ঘটনার শঙ্কা ও মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির ফলে আকাশপথে যাত্রী চাহিদা বেড়েছে। সময়মতো ঝামেলাবিহীন গনত্মব্যে পৌঁছাতে তারা আকাশপথ বেছে নিচ্ছেন। সড়ক পথে বিড়ম্বনা এড়িয়ে কম সময়ে গনত্মব্যে পৌঁছাতে উচ্চবিত্তদের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও এখন আকাশপথকে বেছে নিচ্ছেন। ফলে রাজশাহী-ঢাকা রম্নটের যাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। আগের তুলনায় হযরত শাহমখদুম বিমানবন্দরে যাত্রী বেড়েছে কয়েকগুণ।
এই রম্নটে বিমানের যাত্রার শুরম্নর দিকে (১৯৮৯ সাল) টিকিটের দাম ছিল ৬ শো টাকা। ২০০৬ সলের দিকে ছিল ১৯ শো টাকা। বর্তমানে বিমানের টিকিটের দাম শ্রেণী ভেদে ২৫ শো থেকে ৭ হাজার ৫ শো টাকা । এবং অন্যগুলোর দাম ২৭ শো থেকে ৮ হাজার ৫ শো টাকা। এই এক যুগে টিকিটের দাম কয়েকগুন বৃদ্ধি পেলেও এই রম্নটে বেড়েছে যাত্রীর চাপ। যাত্রার ২/৩ দিন আগেই টিকিট শেষ হয়ে যায়। বিমানে টিকিট না পেয়ে অনেককেই এখন বাধ্য হয়ে ট্রেনে বা গাড়ীতে ঢাকা যেতে হয়। রাজশাহী – ঢাকা রম্নটে এখন প্রতিদিন যাতায়াত করে একটি বিরতিহীন (বনলতা) ও ৩টি আনত্ম:নগর ট্রেন। এছাড়া এসি- ননএসি বাস যাতায়াত করে অসংখ্য।
সংশিস্নষ্টরা জানান, রাজশাহীতে ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে বেশকিছু কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। আরো শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মানাধীন। নতুন শিল্প এলাকা গড়ে তুলতে সম্প্রতি বিসিক-২ রাজশাহীর জন্য ১৫০ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে।
শাহ্‌মখদুম বিমানবন্দর রাজশাহীর ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান বলেন, এখন প্রতিদিন এই বিমানবন্দর থেকে ৩টি ফ্লাইট ঢাকা- রাজশাহী রম্নটে যাতায়াত করছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে পাইলট প্রশিড়্গনের ২টি প্রতিষ্ঠান। এরা নিয়মিত প্রশিড়্গণ দিচ্ছে। এর একটি হচ্ছে গ্যালাঙি এবং অন্যটি বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমী এন্ড জেনারেল এভিয়েশন। বর্তমানে এই বিমান বন্দর আধুনিকায়নের জন্য বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে। বিমানবন্দর আনত্মর্জাতিক মানের করতে সম্প্রসারণ কাজের কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি। এলড়্গে বিষয়টি সমিড়্গা করার জন্য সংশিস্নষ্ট বিভাগের নির্দেশনায় রম্নয়েট কাজ করছে। তবে স্বল্প পরিসরে বর্তমান অবস্থাতেই আনত্মর্জাতিক ফ্লাইট চালানো সম্ভব।
শুধু আভ্যনত্মরিন রম্নটে যাত্রী পরিবহন নয়, কৃষি প্রধান রাজশাহী অঞ্চল থেকে অনত্মর্জাতিক রম্নটে কার্গো বিমান, এই অঞ্চলের হাজীদের নিয়ে সরাসরি হজ্জ ফ্লাইট এবং রাজশাহী-কলকাতা ফ্লাইট চালুর দাবী দীর্ঘদিন থেকে করে আসছেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, সেদিন আর বেশি দুরে নয়, যেদিন রাজশাহী থেকে আকাশে উড়বে আনত্মর্জাতিক রম্নটের ফ্লাইট।