রাজশাহীর বড়কুঠি পদ্মা নদীর ধারে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা, সংরড়্গিত পুরাকীর্তি। কিন্তু বড়কুঠি এখন হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়। কমিউনিটি সেন্টারের মতই এখানে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়। গতকালের সোনালী সংবাদে ‘বড়কুঠি এখন কমিউনিটি সেন্টার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
গত শুক্রবারও সেখানে বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছে। কুঠির ভেতরেই রান্না-বান্না, খাওয়া দাওয়াসহ সবই হয়েছে। অথচ বড়কুঠির প্রবেশ পথেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ডে এটিকে ‘সংরড়্গিত পুরার্কীর্তি’ হিসেবে উলেস্নখ করে এর ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। ব্যতিক্রম হলে আইনভঙের দায়ে শাসিত্মর ঘোষণাও আছে। কিন্তু এ সবের তোয়াক্কা করে না কেউই।
বড়কুঠি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে। রাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্লাব হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে বড়কুঠি। অতিসস্প্রতি এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেয়ার সিদ্ধানত্ম হলেও হসত্মানত্মর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। ফলে ভবনটির দেখাশোনার বিষয়টি ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে। একজন প্রহরী পরিবারসহ এখানে থাকেন এবং একজন পিয়নের সহযাগিতায় এটি দেখাশোনা করেন। তারাই বড়কুঠি ভাড়া দেন এবং টাকা জমা দেন কর্মচারী ক্লাবের তহবিলে।
বিষয়টি জানাজানি হলে সবাই বিষ্মিত হন। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এতো প্রাচীন স্থাপনায় ব্যক্তিগত বা সামাজিক অনুষ্ঠান করার অনুমতি না থাকার কথাই বলেছেন। আর রাজশাহীর জেলা প্রশাসক বড়কুঠি এখন পর্যনত্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকায় তার দেখভালের দায়িত্ব তাদেরই বলে জানিয়েছেন। বাসত্মবে সেটাই দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারীরাই বড়কুঠিতে অবস্থান করছেন এবং ইচ্ছামতো ব্যবহার করে ফায়দা লুটছেন।
বড়কুঠির ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। রাজশাহী শহরে রেশমসহ নানাবিধ পণ্যের ব্যবসা শুরম্ন করে ডাচরা অষ্টাদশ শতাব্দীর শুরম্নতে। পরবর্তীতে ব্যবসার প্রয়োজনেই বড়কুঠি নির্মাণ করে যা ডাচ ফ্যাক্টরি হিসেবে পরিচিতি পায়। আশপাশের নীলকুঠি ও ইমারতের মধ্যে সবচেয়ে বড় হওয়ায় বড়কুঠির নাম ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসার নিরাপত্তার জন্য এটিকে দূর্গ রূপে গড়ে তোলা হয়। চারদিকে সশস্ত্র পাহারা ও বাইরের আক্রমণ ঠেকাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াও ভবনের ছাদে কামান বসানো ছিল। ঐতিহাসিক সিপাহী বিদ্রোহের সময় বড়কুঠি ইংরেজ বাহিনীর রাজশাহী ক্যাভালরির সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে বড়কুঠি কিনে নেন মোদিনীপুরের জমিদার। ১৯৫১ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হলে বড়কুঠি সরকারি সম্পত্তিতে পরিণত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর উপাচার্যের কার্যালয় ও বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয় বড়কুঠি। তখন থেকেই এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।
তাই বড়কুঠি দেখভালের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রড়্গা করার পাশাপাশি অবিলম্বে সংরড়্গিত পুরাকীঁর্তি হিসেবে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে হসত্মানত্মর করে বড়কুঠি রড়্গা নিশ্চিত করতে হবে তাদেরকেই। তার আগে কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে বড়কুঠির যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদড়্গেপ নেয়াও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপড়্গেরই দায়িত্ব।