এফএনএস: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে, সেটাই সঠিক পথ। কোনও যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। নগর পুলিশের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু এক কোটি শরণার্থী ফিরিয়ে এনেছিলেন। দেশে থাকা দুই কোটি গৃহহীন মানুষকে ঘরে ফিরে এনেছেন।
আজকে ১১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আমরা হিমশিম খাচ্ছি। অথচ বঙ্গবন্ধু তিন কোটি মানুষকে পুনর্বাসন করেছিলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। পাকিসত্মানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফেরার সময় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে বলেছিলেন- মিসেস গান্ধী আপনার সৈন্য কখন ফেরত নেবেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী রাজনৈতিক চিনত্মার কারণে সেদিন তিন মাসের মাথায় ভারতীয় সৈন্য ফেরত গিয়েছিল।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশ চায়নি তারাই ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। তারা চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলতে। আনত্মর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ ছিল বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রথমে তারা জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করতে চেয়েছিল। প্রতিবাদের মুখে সেদিন তারা সফল হয়নি।
ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, বাংলাদেশে এখন শুধু কবিতায় কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায়, বাসত্মবে পাওয়া যায় না। ছেঁড়া কাপড় পরা মানুষ পাওয়া যায় না। একসময় আমরা পুরনো কাপড় বিদেশ থেকে আমদানি করে এনে পড়তাম আর এখন আমরা বিদেশে নতুন কাপড় রফতানি করি। সবকিছু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করতে চায় মনত্মব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরম্নল ইসলাম আলমগীর ও তার দলের নেতারা যেভাবে রোহিঙ্গা নিয়ে রাজনীতি শুরম্ন করেছেন, তাদের কথাবার্তায় মনে হয় রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক এটি তারা চান না। রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করাই তাদের উদ্দেশ্য। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতির চাকাকে সত্মব্ধ করে দেওয়ার জন্য অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। ২০১৩, ১৪ এবং ১৫ সালে মানুষের ওপর রাজনীতির নামে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারা হয়েছে। মানুষকে দিনের পর দিন অবরম্নদ্ধ রেখেছে। তখন পুলিশ বাহিনী জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছে।
শুধু চেষ্টা করেনি, অনেক পুলিশ সদস্য অকাতরে জীবন দিয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যেমন পুলিশের ওপর প্রথম হামলা হয়, ঠিক তেমনি আজকে যখন দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে তখনও পুলিশের ওপর হামলা হচ্ছে। পুলিশের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা রয়েছে। পুলিশের আত্মত্যাগ রয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পেট্রোল বোমাবাজদের প্রতিহত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে পুলিশ বাহিনী।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপকমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ। বক্তব্য দেন সিএমপির উপকমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবলী সাদিক, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান, পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনুর রহমান। পরে প্রধান অতিথি সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।