মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: মান্দায় পাকহানাদার বাহিনীর ব্রাশফায়ারে নিহত ১৬ শহিদের স্মৃতিবিজড়িত মনোহরপুর বধ্যভূমি আজও অরৰিত অবস’ায় পড়ে রয়েছে। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও বধ্যভূমির রৰণাবেৰনের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
স’ানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি সেখানে প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু হলেও ভূমি জটিলতায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে শহিদ পরিবার ও স’ানীয়দের মাঝে চরম ৰোভ বিরাজ করছে।
স’ানীয়রা জানান, মনোহরপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প রয়েছে স’ানীয় রাজাকারদের এমন সংবাদে বিজয় দিবসের মাত্র ৩ দিন আগে ১৩ ডিসেম্বর বিকেলে গ্রামটি আক্রমণ করে পাকহানাদার বাহিনী। হানাদার বাহিনীর সদস্যরা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় গ্রামের ১০-১২টি বসতবাড়ি। এসময় তাদের হাতে আটক হন মনোহরপুর, তুড়-কগ্রামসহ ৫ গ্রামের ১৬ জন নিরীহ মুক্তিকামি মানুষ। পরে গ্রামের পশ্চিমধারে এনে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয় তাদের।
স’ানীয়রা আরও জানান, একাত্তরের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে মনোহরপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী প্রামানিকের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা একটি ক্যাম্প স’াপন করে। এ ক্যাম্প থেকে ৬ ডিসেম্বর নিয়ামতপুর থানা আক্রমণ ও অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স’ানীয় রাজাকাররা ৰুব্ধ হয়ে মনোহরপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস’ান বিষয়ে কালিকাপুর স্কুল মাঠে স’াপিত পাকসেনা ক্যাম্পে অবহিত করে। সেই সংবাদে ১৩ ডিসেম্বর কালিকাপুর থেকে পায়ে হেঁটে সদলপুর হয়ে ওইদিন বিকেলে মনোহরপুর গ্রাম আক্রমণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায় পাকবাহিনী।
মনোহরপুর গ্রামের আলী হোসেন, আব্দুস সামাদ. মমতাজ হোসেন, আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে জানান, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাণিজ্য মন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল জলিল, বর্তমান সাংসদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত বিমল কৃষ্ণ রায়ের উদ্যোগে বধ্যভূমির পশ্চিমধারে একটি শহিদমিনার নির্মাণ ও এর পাশে শহিদদের একটি নামফলক স’াপন করা হয়। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি শহিদমিনারের পাশে উপজেলা এলজিইডি’র তত্ত্বাবধানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল স’াপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বধ্যভূমির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করে এলজিইডি। কিন্তু ভূমি জটিলতার কারণে বর্তমানে কাজটি বন্ধ রয়েছে।
স’ানীয় একাধিক সুত্র জানায়, মনোহরপুর মৌজার আরএস ১২০ নম্বর খতিয়ানভূক্ত ২৫০ দাগের ১৮ শতক জমিতে একাত্তরের ১৩ ডিসেম্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। ওই খতিয়ানের মালিক হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন ব্যক্তি। খতিয়ানে উলেৱখিত অন্য ৪টি দাগে দেবস’ান ও হিন্দু জনসাধারণের ব্যবহার্য উলেৱখ থাকলেও ২৫০ দাগের শ্রেণিতে গড়লায়েক পতিত ও মন্তব্য কলাম ফাঁকা রয়েছে। এতে করে ওই সম্প্রদায়ের লোকজন বধ্যভূমির প্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘ভূমি জটিলতায় মনোহপুর বধ্যভূমির প্রাচীর নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে স’ানীয়দের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হলেও তা সুরাহা হয়নি। তিনি আরও বলেন, শহিদদের স্মৃতি রৰায় প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’
স’ানীয় সচেতন মহলের দাবি, ২৫০ নম্বর দাগে গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। এ দাগের পূর্বধারে গণকবর ও পশ্চিমধারে শহিদমিনার স’াপন করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই একই দাগে স’াপিত হয়েছে জাতির জনকের ম্যুরাল। সেখানে গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামি প্রজন্ম সহজেই মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। তাই ভূমি জটিলতা কাটিয়ে শহিদের স্মৃতি রৰায় বধ্যভূমিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশিৱষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তৰেপ কামনা করেছেন স’ানীয়রা।