স্টাফ রিপোর্টার: উচ্চ আদালত ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহীর একটি অবৈধ বালুঘাটে আবারও বালু তোলার প্রস্তুতি শুরম্ন হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত ২৪ জুলাই জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুঘাটটি বন্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার সেখানে বালু তোলার প্রস্তুতি চলছে।
বালুঘাটটি রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায়। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু বালুঘাটটি চালাতেন। ‘মেসার্স আমিন ট্রেডার্স’ নামের তার ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান তালাইমারীর পাশেই চরখিদিরপুর ও চরশ্যামপুর মৌজায় একটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছিল। কিন্তু ইজারাবহির্ভূত এলাকা তালাইমারী থেকে বালু তোলার কারণে একটি রিট হয়েছিল উচ্চ আদালতে। এরপরই উচ্চ আদালতের নির্দেশে বালুঘাটটি বন্ধ করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া সেদিন আট চালককে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত বালুঘাটটি বন্ধ করে দেয়ার পর একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছিল। তাতে লেখা ছিল- ‘মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং- ৬৫২১/২০১৯ এর আদেশ মোতাবেক কাজলা মৌজা/কাজলা ঘাট ব্যবহার করে সকল ধরনের বালু উত্তোলন/পরিবহন নিষিদ্ধ করা হলো। এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরম্নদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আদেশক্রমে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী।’
কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল তার পাশেই বালু রাখার জন্য জায়গা ঠিক করা হচ্ছে। আর ওই এলাকায় বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। স্থানীয়রা জানান, পদ্মা নদীতে এখন পানি থাকায় বালু তোলা হবে ড্রেজারে। তারপর পাইপের মাধ্যমে বালু রাখা হবে নদীর কিনারায়। এ জন্য কয়েকদিন ধরেই কাজ চলছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজলা মৌজা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন নিষিদ্ধ করলে আজিজুল আলম বেন্টু নিজের ইজারা নেওয়া এলাকা থেকে বালু তোলার চেষ্টা করেছিলেন। সেই বালু কাটাখালি পৌরসভার শ্যামপুর মৌজার রাসত্মা দিয়ে পরিবহন শুরম্ন হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক চলাচলে রাসত্মা ড়্গতিগ্রসত্ম হবে বলে বাধা দেন এলাকাবাসী। পরে বালু উত্তোলনকারীদের ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। ফলে ইজারা নেয়া এলাকায় বালু উত্তোলন করতে না পেরে এখন আবার ইজারাবহির্ভূত তালাইমারী এলাকায় বালু তোলার প্রস্তুতি চলছে।
ইজারাবহির্ভূত এলাকা থেকে বালু তোলার বিরম্নদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন নগরীর বুলনপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন নামে আরেকজন বালু ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, সর্বশেষ ২০ আগস্ট উচ্চ আদালতে উভয়পড়্গের শুনানি হয়েছে। সেখানে বালু তোলা বন্ধ রাখার সিদ্ধানত্ম বহাল রেখে উচ্চ আদালত জানতে চেয়েছেন, যিনি বালু তুলছিলেন তার বিরম্নদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারপরও এখন অবৈধভাবে বালু তোলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি এই কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কথা বলতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মেসার্স আমিন ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী আজিজুল আলম বেন্টু কথা বলতে চাননি। তবে বালুঘাট বন্ধ করার পর দিন সংবাদ সম্মেলন করে তিনি দাবি করেছিলেন, তার বালুঘাট অবৈধভাবে বন্ধ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানতে চাইলে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হামিদুল হক বলেন, নতুন করে বালু তোলার প্রস্তুতি শুরম্ন হয়েছে এমনটি তিনি শুনেছেন। তবে উচ্চ আদালতে সর্বশেষ যে শুনানি হয়েছে তার কাগজপত্র হাতে পাননি। তাই অপেড়্গা করছেন। কাগজপত্র হাতে পেলে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী পদড়্গেপ নেওয়া হবে।