পুঠিয়া প্রতিনিধি: রাজশাহীর পুঠিয়ায় একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে আবদুস সামাদ মুসা (৬৭) ওরুফে ফিরোজ খাঁর মৃত্যুদ-ের রায় দিয়েছে আনত্মর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আনর্ত্মজাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের বিচারপতি শাহিনুল ইসলামের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সনত্মুষ্টি প্রকাশ করে স’ানীয় মুক্তিযোদ্ধারা প্রত্যাশিত রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তবে রায়ের ব্যাপারে মুসার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারো সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সামাদ মুসা ওরফে ফিরোজ খাঁর বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পৌর এলাকার কাঁঠালবাড়িয়া মহলস্নায়। তার একটি কন্যা ও একটি পুত্র সনত্মান রয়েছে। তবে তার পূর্বপুরম্নষরা ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে এদেশে এসেছিলেন। সে সময় মুসার বয়স ছিল ২০ বছরের মত। তবে মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অভিযোগ পত্রের তথ্য অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণি পর্যনত্ম লেখাপড়া করা আসদুস সামাদ মুসা এক সময় মুসলিম লীগের রাজনীতি করলেও একাত্তরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে প্রবেশ করে স’ানীয় রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখান। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিসত্মানি সেনাবাহিনীর পড়্গ নিয়ে পুঠিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান। সে সময় পুঠিয়ার ৪ জন সাঁওতালসহ ১৫ জনকে হত্যা, ২১ জনকে নির্যাতন, ৮ থেকে ১০টি বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও ৫০ থেকে ৬০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয় মুসার বিরুদ্ধে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ইলিয়াস হোসেন রায়ে সনত্মুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রত্যাশিত রায়ে মুক্তিযোদ্ধারা সনত্মুষ্ট। মামলার তদনত্মকারি কর্মকর্তা, আনর্ত্মজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও এ মামলায় সংশিস্নষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পুঠিয়ার বিভিন্ন স’ানে মুসা যে নির্যাতন চালিয়েছেন তা কল্পনা করলে এখনো গায়ের লোম শিউরে উঠে। এ মামলায় আমাদের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সাড়্গ্য দিয়েছেন। কিনত্মু দুঃখের বিষয় তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন। আমরা এ রায়ের জন্য দীর্ঘদিন থেকে অপেড়্গা করছিলাম। অবশেষে আমাদের প্রত্যাশিত রায় পেয়েছি। এখন দ্রম্নত এ রায় কার্যকরের দাবি আমাদের।
রায়ের প্রতিক্রিয়া সর্ম্পকে জানতে চাইলে স’ানীয় আ’লীগ নেতা আহসানুল হক মাসুদ বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বচ্ছ বিচার বিভাগ একটি দৃষ্টানত্মমূলক রায় দিয়েছেন। এ রায়ে পুঠিয়াবাসী সনত্মুষ্ট, আমরা চাই রায়টি দ্রম্নত বাসত্মবায়ন হোক।
উলেস্নখ্য, ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলার তদনত্ম শুরুর সময় আসামি করা হয় ৬ জনকে। তদনত্ম চলাকালে বাকি ৫ জনের মৃত্যু হয়। একমাত্র আসামি আবদুস সামাদ মুসা তদনত্ম চলাকালীন সময়ে পুঠিয়া থানা পুলিশের হাতে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হন। ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারি তাকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রসিকিউশনের পড়্গে মামলার তদনত্ম কর্মকর্তাসহ মোট ১৫ সাড়্গী সাড়্গ্য দেন। গত ৪ থেকে ৮ জুলাই যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মামলাটি রায়ের জন্য অপেড়্গমান রাখে ও মঙ্গলবার মৃত্যুদ-ের রায় প্রকাশ করেন।