এফএনএস: নারায়ণগঞ্জে এক গৃহবধূকে অচেতন অবস’ায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর ভুক্তভোগীর অশৱীল ছবি ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আড়াই লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যের বির্বদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার আসামি নৌ পুলিশের একজন কনস্টেবল। তাকে সোমবার রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মামলায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী নারী তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে তাদের স্কুলে যাতায়াত করার সময় ওই কনস্টেবলের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে মোবাইল ফোনেও বেশ কয়েক বার আলাপ হয়। গত ৭ আগস্ট আসামি ওই নারীর মোবাইলে কল করে জর্বরি কথা আছে বলে দেখা করতে বলেন। সে সময় শহরের উত্তর চাষাঢ়ায় ভাইয়ের বাসায় ছিলেন ওই নারী। পরে ওই পুলিশ সদস্যকে বাসায় আসতে বলেন তিনি। সন্ধ্যায় অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল ওই নারীর ভাইয়ের বাসায় আসার সময় সঙ্গে একটি কোকা-কোলার বোতল নিয়ে আসেন। কোকা-কোলা খাওয়ানোর পর নারীটি অচেতন হয়ে যান। এ সুযোগে ওই নারীকে ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অশৱীল ছবি তুলে রাখেন ওই পুলিশ সদস্য। পরে জ্ঞান ফিরলে পুলিশের কনস্টেবল ওই নারীকে হুমকি দিয়ে বলেন, তোমার নোংরা ছবি আমার কাছে আছে। এ বিষয়ে কাউকে জানালে আমি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেব। এ সুযোগে আরো কয়েক বার ওই নারীকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করেন ওই পুলিশ সদস্য। একপর্যায়ে অশৱীল ছবির ভয় দেখিয়ে ওই নারীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন আসামি।
অভিযোগ করা গৃহবধূ বলেন, মানসম্মানের ভয়ে দুই লাখ টাকা দিই। আর সে আমার কিছু স্বর্ণগহনা হাতিয়ে নেয়। পরে সে বাকি এক লাখ টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে গত ১১ আগস্ট বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা দিই। পরে আমি তাঁকে আর টাকা দেব না বললে তাঁর মোবাইলের অশৱীল ছবিগুলো আমার মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। এসব ছবি আমার স্বামীর মোবাইলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হমকি প্রদান করে। তাই ভয়ে ভাইয়ের বাসায় এসে থাকছি।
এদিকে, গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক এনামুল হক জানান, এক যুবককে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি ঢাকা নৌ পুলিশের একজন কনস্টেবল।