স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম টুলুর বিরম্নদ্ধে ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শিমুল আক্তার ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন তদনেত্ম গেলে এর সত্যতা পান।
মুর্শিদা খাতুন নামে কার্ডধারী এক নারী চাল না পেয়ে গত ২১ আগস্ট জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছিলেন। বিষয়টি তদনেত্মর জন্য জেলা প্রশাসক গোদাগাড়ীর ইউএনওকে দায়িত্ব দেন। গতকাল ইউএনও সরেজমিনে তদনেত্ম গেলে কার্ডধারীরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এ সময় কার্ডধারী মুর্শিদা খাতুন বলেন, ভিজিডি কার্ডে নাম থাকা সত্ত্বেও তিনিসহ মোট ১৯ জনকে কার্ড না দিয়ে চেয়ারম্যান জানুয়ারি মাস থেকে নিজেই চাল উত্তোলন করে আসছেন। কার্ডের কথা বলতে গেলে তিনি পরিষদ ভবন থেকে তাদের বের দেন। শুধু তাই নয়, তাদের নামে কোন কার্ড হয়নি বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয়ে সন্দেহ হলে তিনি ভিজিডি কার্ডের তালিকা সংগ্রহ করেন এবং সেখানে তার নাম দেখতে পান। এরপর অনুসন্ধান করে জানতে পারেন মোট ২৬৫ জন কার্ডধারীর মধ্যে বিলাসী গ্রামের মুর্শিদা, পলাশী গ্রামের ফরিদা, প্রসাদপাড়ার সাথীয়ারা বেগম, মান্ডইলের সুমি রানী, সৈয়দপুরের শেফালী বেগম, আদারপাড়ার মমতা রানী, মান্ডইলের বাসনত্মী রানী, ভুতধাংসা গ্রামের ভেরোনিকা হাঁসদা, চব্বিশ নগরের লতিফা খাতুন, বাইপুরের সাবিনা বেগম, সাইরা বেগম ও আসমা বেগম, সোলাপাড়ার সিমা বেগম, বাইপুরের আম্বিয়া বেগম, চব্বিশনগরের সাগরি ও জেসমিন খাতুনের নাম থাকা সত্ত্বেও চেয়ারম্যান তাদেরকে কার্ড না দিয়ে নিজেই এতদিন চাল উত্তোলন করে আসছেন।
এ সময় ইউএনও অন্য নারীদেরও কথা শোনেন। পরে আজ বুধবার এই ১৯ জনকে সকল প্রাপ্তি চাল দেওয়া, তালিকায় যাদের নাম আছে এবং কার্ড এখনো পায়নি তাদের সকলকে তাৎড়্গণিক কার্ড প্রদানের নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান তাৎড়্গণিক মুর্শিদাকে কার্ড প্রদান করেন এবং আগামী ১ সেপ্টেম্বর রোববার এই ১৯ জন কার্ডধারীকে পুরো ছয়মাসের চাল প্রদানের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে কেন চাল দেয়া হয়নি তা জানতে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়ার নির্দেশ দেন ইউএনও। চাল না দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, যারা চাল পাননি তাদের আগামী রোববার তিনি চাল দেবেন।