স্টাফ রিপোর্টার: আসামি গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত আদালতে সোপর্দ না করে সংশিস্নষ্ট উপজেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থাপনের বিষয়ে রাজশাহীর সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সতর্ক করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান তালুকদার এক আদেশে ওসিদের প্রতি এই সতর্কতা জারি করেছেন।
আদেশে আদালত বলেছেন, সমপ্রতি বিভিন্ন পত্র পত্রিকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আদালতের দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, রাজশাহীর বিভিন্ন থানার ওসিরা আসামি গ্রেপ্তারের পর নিয়মিত আদালতে সোপর্দ না করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনারদের (এসি ল্যান্ড) নিকট উপস্থাপন করছেন। এরপর এসব ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট আইন-২০০৯ বিধান লঙ্ঘন করে আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছেন, দেশের সংবিধান এবং প্রচলিত অন্যান্য আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আদালতের এ আদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন-২০০৯ এর ৬ (১) ধারা উলেস্নখ করা হয়েছে। ওই আইনে বলা হয়েছে যে, কেবল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য অপরাধ তার সামনে ঘটেছে এমন হয়ে থাকলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যসত্ম করে এ আইনের নির্ধারিত দ- আরোপ করতে পারবেন।
এদিকে, ২০১৭ সালে টাঙ্গাইলের সখিপুরের ইউএনও’র আইনবহির্ভূত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উচ্চ আদালতের দেয়া একটি রম্নলের সিদ্ধানত্মও তুলে ধরা হয়েছে রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে। উচ্চ আদালতের ওই রায়ের মাধ্যমে আইনবহির্ভূত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য সখিপুরের ইউএনও এবং ওসির বিরম্নদ্ধে শাসিত্মমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল বলেও এতে উলেস্নখ করা হয়।
এ নিয়ে রাজশাহীর ওসিদেরও সতর্ক করে আদালতের এই আদেশে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত-২০০৯ এবং উচ্চ আদালতের রায়ের সিদ্ধানত্ম অমান্য করে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহায়তা করার কোনো সংবাদ আদালতের গোচরীভূত হলে তাদের বিরম্নদ্ধে বিধি মোতাবেক শাসিত্মমূলক ব্যবস্থা করা হবে এবং বিষয়টি সুপ্রীম কোর্টকে অবহিত করা হবে।
আদেশের এই অনুলিপি রাজশাহীর সব থানার ওসি ছাড়াও আইন ও বিচার বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, জেলা ও দায়রা জজ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি), রেলওয়ে পুলিশের এসপি, পুলিশের অপরাধ তদনত্ম বিভাগের (সিআইডি) এসপি, রাজশাহীর সকল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের রাজশাহীর উপ-পরিচালককে দেয়ার জন্য সংশিস্নষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।