এফএনএস: চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নের হার ৮১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভা বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নের বিষয়ে ২০১৯ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (এপ্রিল-জুন) প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যনত্ম ৭টি মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। এতে সিদ্ধানত্ম নেওয়া হয় ৭২টি। সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়ন করা হয়েছে ৫৯টি। ১৩টি সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নাধীন। সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নের হার ৮১ দশমিক ৯৪ শতাংশ। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর এটাই প্রথম দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধানত্ম বাসত্মবায়নের হার নিয়ে প্রতিবেদন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে জুন পর্যনত্ম মন্ত্রিসভা বৈঠকে একটি নীতি বা কর্মকৌশল ও একটি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুমোদিত হয়েছে। এ সময়ে সংসদে আইন পাস হয়েছে ছয়টি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, বিমান দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ৪০ টাকা পাবেন। আকাশ পথে পরিবহন (মন্ট্রিল কনভেনশন, ১৯৯৯) আইন ২০১৯ খসড়ায় এমনটাই বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের খসড়া গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সভায় মোট ছয়টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছ। এর মধ্যে আকাশ পথে পরিবহন আইন-২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। বিমানের যাত্রীদের অধিকার সুরক্ষার জন্য এই আইনটি করা হচ্ছে। আগে এ নিয়ে কোনও আইন ছিল না। ফলে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবার কম ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। যদি মন্ট্রিল কনভেনশন অনুযায়ী আমাদের আইন থাকতো তাহলে যাত্রীর পরিবার ক্ষতিপূরণ পেতো কয়েক গুণ বেশি। একেকজন কমপক্ষে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা করে পেতো। আইনটি বিমান কর্তৃপক্ষ ভঙ্গ করলে অর্থাৎ যাত্রী মারা গেলে, আঘাতপ্রাপ্ত হলে কিংবা লাগেজ হারিয়ে গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মন্ট্রিল কনভেনশন ১৯৯৯ অনুযায়ী যাত্রী মারা গেলে এক লাখ ৪০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ব্যাগ হারিয়ে গেলে প্রতি কেজির জন্য ৭০ ডলার করে জরিমানা দিতে হবে। আইন বাসত্মবায়নের ফলে বিমানে ভাড়া বাড়বে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, বিমান ভাড়া বাড়বে না। কারণ ক্ষপিূরণের এই টাকা বিমান কর্তৃপক্ষ ইন্সুরেন্স কোম্পানির কাছ থেকে নেবে। মন্ত্রিসভায় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯ এর খসড়ার অনুমোদন হয়েছে। সচিব বলেন, রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে চামড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী দ্বিতীয় খাত। ২০২৪ সাল নাগাদ আশা করছি ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করতে সক্ষম হবো। এই টার্গেট নিয়ে কাজ করছি। এই নীতিমালার আওতায় শিল্পমন্ত্রীর নেতৃত্বে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়ন নীতিমালা পরিষদ নামে ৪১ সদস্যের একটি পরিষদ গঠন হবে। আর শিল্প সচিবের নেতৃত্বে চামড়া এ চামড়াজাত পণ্যের নীতিমালা বাসত্মবায়ন পরিষদ থাকবে। এর সদস্য সংখ্যা ২০ জন। এই নীতিমালার আলোকে ট্যানারি শিল্প মালিকদের ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। চামড়া শিল্পের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। পণ্য উৎপাদনে আনত্মর্জাতিকমান বজায় রাখা সহজ হবে। দক্ষ ও কার্যকর সেক্টর গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সোমবারের বৈঠকে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স করপোরশেন আইন ২০১৯ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে।
এতদিন ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে চলছিল। এখন এটা আইনে পরিণত হলো। আগের হাউস লেখার পরিবর্তে এখন হাউজ লেখা হবে। এ আইনে নতুন করে খেলাপি ঋণের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান ও পরিচালকের যুক্ত করা হয়েছে। আগের আইনে এগুলো ছিল না। এর প্রধান অফিস হবে ঢাকায়। পরিচালকরা এক মেয়াদে তিন বছরের জন্য মনোনীত হবেন। আইনের কোনও শর্ত ভঙ্গ করলে বা মিথ্যা বিবরণ দিয়ে ঋণ গ্রহণ করলে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাসিত্ম হবে ৫ বছরের দ- এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-। করপোরেশনের অনুমতি ছাড়া কেউ তাদের নিজস্ব প্রসপেকটাসে নাম ব্যবহার করলে ছয় মাসের দ- আর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। করপোরেশনের অনুমোদিত মূলধন হবে এক হাজার কোটি টাকা। যা আগে ছিল ১১০ কোটি টাকা। করপোরেশন পেইড আপ (পরিশোধিত) মূলধন ৫০০ কোটি টাকা হবে। যা আগে এটা ছিল ১১০ কোটি টাকা। এছাড়া বাংলাদেশ ও চেক রিপাবলিকের মধ্যে স্বাক্ষরের জন্য দ্বৈত করারোপন পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ সংক্রানত্ম চুক্তির খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বৈত কর দিতে হবে না। প্যাটেন্ট কোঅপারেশট ট্রিটি (পিসিটি) তে বাংলাদেশের অনত্মর্ভুক্তির বিষয়টি অনুমোদন করা হয়েছে।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে ন্যাপ নেতা অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রসত্মাব গৃহীত হয়েছে। তাকে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, তিনি মুজিব নগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন।