শিরিন সুলতানা কেয়া: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে ধীরে ধীরে পানি বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে নদীর গর্জন। রাজশাহীতে এখন পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার এক দশমিক ৮০ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই এই পানি দেখে আতঙ্ক বাড়ছে পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ রিডার এনামুল হক জানান, রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। সোমবার দুপুর ১২টায় নগরীর বড়কুঠি পয়েন্টে পদ্মায় প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। আর ভোর ৬টায় পানির প্রবাহ ছিল ১৬ দশমিক ৬৮ মিটার।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তাদের আগস্ট মাসের বন্যা পূর্বাভাস সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মাসের (আগস্ট) শেষের দিকে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে রাজশাহী বিভাগে বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। গত ২০ আগস্ট এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গঙ্গা বেসিনের ভারতীয় অংশে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে এ অঞ্চলের ভারতীয় অংশে গঙ্গা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এ নদীর ভাটিতে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানি সমতলে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা চলতি মাসের শেষ নাগাদ অব্যাহত থাকতে পারে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ পদ্মা নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়ে রাজশাহী ও হার্ডিঞ্জব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি বা স্থানবিশেষে সাময়িকভাবে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে কুষ্টিয়া, পাবনা, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার কিছু স্থানের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার ঝুঁকি আছে।
এদিকে পদ্মায় প্রবাহ বাড়ায় বানের পানি ঢুকতে শুরম্ন করেছে পদ্মার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী নিচু এলাকায়। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে মানুষের। পানি বাড়ায় শঙ্কা বাড়ছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের পুরনো অংশ নিয়েও। রক্ষণাবেক্ষণ ও দখলে নাজুক অবস্থা এই অংশের। পানির চাপ বাড়লে যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তবে নগরীর বুলনপুর থেকে নবগঙ্গা পর্যনত্ম পাঁচ কিলোমিটার নতুন বাঁধ নিয়ে শঙ্কা নেই। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার আনত্মরিক প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে এই বাঁধ।
এদিকে গত ১৭ বছরে রাজশাহীতে পদ্মায় প্রবাহ বিপদসীমা পেরিয়েছে মাত্র দুইবার। এর মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যনত্ম টানা ৮ বছর রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। কেবল ২০০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মার সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ মিটার। এরপর ২০১৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে পদ্মা বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। ওই বছর পদ্মার উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ১৮ দশমিক ৭০ মিটার। এরপর পানি বাড়লেও আর এই রেকর্ড ভাঙেনি।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম বলেন, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিপদসীমা এখন আর সেইভাবে প্রভাব ফেলছে না। তারপরেও বন্যা হলে তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন দপ্তরও প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছে আগে থেকেই।