এফএনএস: মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা, বাংলাদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) সভাপতি ও উপমহাদেশে বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক জানান, গতকাল রোববার বাদ যোহর পঞ্চম নামাজে জানাজা শেষে নিজ গ্রাম কুমিলস্নার দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদে গার্ড অব অনারসহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কুমিলস্না টাউন হলে সকাল ১০টায় চতুর্থ নামাজে জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি এলাহাবাদ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। গত শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের ট্যানেলে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোজাফফর আহমদকে গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করা হয়। এ সময় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সহকারী সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা জানান। জানাজার পূর্বে মরহুমের জীবনী পাঠ করেন ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। পরে নিউমার্কেট দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসত্মরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার লাশ রাখা হয়। সেখানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার সর্বসত্মরের মানুষ এই প্রবীণ রাজনীতিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বাদ আছর বায়তুল মোকাররম মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে লাশ নিজ গ্রামের বাড়ি কুমিলস্নায় নিয়ে যাওয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৯ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ ইনেত্মকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।