কাজী নাজমুল ইসলাম: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কাঙিড়্গত বৃষ্টি না হওয়ায় এবং ধানের নায্যমূল্য না পাওয়ায় রাজশাহী অঞ্চলের চাষিদের আমন ধান চাষে আগ্রহ কমে গেছে। ফলে রাজশাহীতে এবার আমন আবাদ কমেছে।
আমন চাষি ও কৃষিবিদদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইতিমধ্যে রাজশাহীতে আমন চারা রোপণ প্রায় শেষ হয়েছে। চাষিরা এখন আমন খেতে নিড়ানি, সার দেয়ায় ব্যসত্ম সময় কাটাচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে বরেন্দ্র অঞ্চলের চাষিরা সাধারণত আমন চারা তৈরি ও রোপণ করেন বৃষ্টির পানিতে। কিন্তু এবার তার ব্যতিক্রম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আষাঢ় মাসে বরেন্দ্র অঞ্চলে কাঙিড়্গত বৃষ্টি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে বেকায়দায় পড়েছেন আমন চাষিরা। পানি না থাকায় অনেক চাষি সেচ দিয়ে চারা তৈরি ও রোপণ করেছেন। এতে বাড়তি খরচ পড়েছে চাষিদের। তাছাড়া ধানের দাম কম থাকায় আমন চাষে চাষিদের আগ্রহও কমেছে। ফলে এবার রাজশাহী অঞ্চলে আমন আবাদ কমে গেছে।
পবার কর্ণহার বড়বিলা পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি চাষি নুরম্নল আমিন জানান, অন্যান্য বছর এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় আমন চারা রোপণে তেমন সমস্যা হয় না। কিন্তু এবার কাঙিড়্গত বৃষ্টির দেখা নেই। তাছাড়া ধানের দামও কম। বর্তমানে রাজশাহীর হাট-বাজারে প্রতিমণ (৪০কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭২০ টাকায়। এই দামে ধান বিক্রি করে চাষিরা লাভ করতে পারছেন না। ফলে আমন চাষে আগ্রহ কমেছে চাষিদের।
পবা এলাকার আমনচাষি জাইদুর রহমান বলেন, এবার তিনি ৩০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করবেন বলে সিদ্ধানত্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় খরচ বেশি পড়ায় ২৫ বিঘায় আবাদ করেছেন। তাছাড়া শ্রমিক সংকটের কারণে চাষিদের আমন আবাদে খরচ কিছুটা বেড়েছে। অন্যদিকে ধানের দাম কম। ফলে অনেকেই আমন আবাদ করছেন না।
কৃষিবিদরা বলেন, এবার প্রতিকূল আবহাওয়ায় আবাদ কিছুটা কমেছে। তবে এখন বৃষ্টি হওয়ায় পাট কেটে এখনও অনেকে স্থানীয় জাতের ধানের চারা রোপণ করছেন। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকে আমন চাষিদের সার্বড়্গণিক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহীতে আমন চাষের লড়্গমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৪ হাজার ৯৮১ হেক্টর। গতকাল পর্যনত্ম আবাদ হয়েছে ৭১ হাজার ৩৭৫ হেক্টরে। গতবছর আবাদ হয়েছিল ৭৫ হাজার ১৬৬ হেক্টরে। আমন চারা রোপণের মোড়্গম সময় ১৫ আগস্ট পর্যনত্ম। এবার দেরিতে বৃষ্টি হওয়ায় এখনও স্থানীয় জাতের কিছু চারা রোপণ করা হচ্ছে।