স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর তানোরে মসজিদ ও মাদ্রাসার এক সভাপতির বিরম্নদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্ত্রী রুমা খাতুন নিজেই বাদী হয়ে রাজশাহীর আমলী আদালতে ২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং ২৩২/১৯সি তানোর। মামলায় স্বামী মহসিনসহ তার দুই বোন ও এক দুলাভাইকে আসামি দেখানো হয়।
মামলার এজাহার ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, রাজশাহীর তানোর পৌর এলাকার জিওল গ্রামের মসজিদ ও দাখিল মাদ্রাসার প্রভাবশালী সভাপতি মহসিন রেজা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানুষিকভাবে বর্বর নির্যাতন করে ঘরে বন্দি রাখে। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে।
কাজী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২১ হাজার ৫০১ টাকা দেন মোহর ধার্য করে ২০০২ সালের ১৪ আগস্ট বিয়ে হয় উপজেলার জিওল গ্রামের মহসিন রেজার সঙ্গে একই উপজেলার হরিপুর গ্রামের রুমা খাতুনের। কিন্তু বছর ছয়েক পর যৌতুকের দাবিতে মহসিন স্ত্রীকে মারপিট করে তাড়িয়ে দেন। পরে থানা কোর্ট করে গত ২০০৮ সালের ১২ জুন রাজশাহী নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিট করে ২৫ লক্ষ টাকা দেন মোহর ধার্য করা হয়। পরের দিন ১৩ জুন ৮ জন স্বাক্ষী রেখে তানোর পৌর সদরের সালাউদ্দিন কাজীর কার্যালয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে নিকাহ্‌নামা আবার রেজিষ্ট্রী হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, চলতি বছরের ২৯ জুলাই সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আসামি মহসিন রেজা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মহসিনের বোন জায়েদা বলেন, আপাতত ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক না দেয়া পর্যনত্ম ঘরে আটকে রাখ। এ সময় মহসিন ও তার বোন জায়েদা, রাশেদা এবং দুলাভাই নুরুল ইসলাম বর্বর নির্যাতন করে ঘরে বন্দি রাখে।
মহসিনের শ্বশুর আব্দুল করিম জানান, তার জামাইয়ের অনেক জমি-জমা থাকা সত্ত্বেও লোভী প্রকৃতির। সে ধানাঢ্য ও সম্পদশালী বলে অহাংকার করে। তার মেয়েকে রেখে দ্বিতীয় বিয়ে করবে। এজন্য মেয়েকে পারমিশন দিতে হবে। নইলে তালাক নিতে হবে। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিওতে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ঋণ আছে। এছাড়াও প্রায় ৪০ বিঘা জমি ৫০ লক্ষ টাকায় বন্ধক রাখা হয়েছে। মহসিন ঋণগ্রসত্ম হওয়ায় তার ঋণ আমাকে শোধ করতে হবে বলে দম্ভোক্তি করে। তবেই আমার মেয়েকে নেবে মহসিন।
তিনি আরও জানান, অনেক কিছু দেবার পরও বর্তমানে মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। ফলে মেয়ের জীবনে অশানিত্ম নেমে এসেছে। এ অবস্থায় তার মেয়েকে তালাকও দিয়েছে যৌতুক লোভী জামাই মহসিন। তাই গত বৃহস্পতিবার তার মেয়ে মামলা করেছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মহসিন রেজা ও নুরুল ইসলাম নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে বলছেন, রুমার চলাফেরা ভাল নয়। তার স্ত্রী তার বাধ্য নয়। এ কারণে তাকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এখন যা হবার তা আইনি প্রক্রিয়ায় হবে। তবে, তার স্ত্রীর মামলা থেকে তিনি জামিনে মুক্ত আছেন বলে জানান মহসিন।
এ নিয়ে তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খায়রুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন। আদালত থেকে মামলার নথি আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।