স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী ওয়াসায় কর্মরত এক নারী কর্মচারী ও তার পরিবারের বির্বদ্ধে প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে এক ব্যবসায়ী। গত শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রাজশাহী মহানগরীর স্বর্ণ ব্যবসায়ী শংকর মোহন্ত বলেন, একই এলাকায় বসবাস করায় ও পারিবারিকভাবে পরিচিতি হওয়ায় মহানগরীর গণকপাড়া এলাকার মৃত শফি আলীর মেয়ে শামিমা পারভীন সুমি নামের এক নারীর সাথে ছোট থেকেই তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত হওয়ায় গত ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে শামীমা পারভীন সুমির মা শিবানী খাতুন মুঠোফোনে তাকে মহানগীর জলিল বিশ্বাস মার্কেটের খুশি বুটিক দোকানে আসতে বলেন। তিনি সুমির মায়ের কথামতো সেই দোকানে গিয়ে বিশেষ প্রয়োজন দেখিয়ে এক মাসের জন্য ২০ হাজার টাকা ধার নেন শিবানী খাতুন।
এরপর ধারের টাকা পরিশোধ করে ব্যবসায়ী শংকরকে আবারও তার (সুমি) মামা তুহিনের নির্মানাধীন ভবনের কাজ শেষ করার লৰ্যে চুক্তিভিত্তিক তিন লাখ টাকা ধার চান। এতে উভয়পৰ সম্মতি হলে তিনশ’ টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে চুক্তিনামার মাধ্যমে নগদ তিন লাখ টাকা প্রদান করেন ব্যবসায়ী শংকর। চুক্তি মোতাবেক ফ্ল্যাট নির্মাণের পর প্রথম তিন মাস (প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা) বাড়ি ভাড়া বাবদ গ্রহণ করেন শংকর।
এরপর চতুর্থ মাস থেকে তুহিন বাড়ি ভাড়ার টাকা প্রদান না করলে ব্যবসায়ী শংকর বিষয়টি সুমি ও সুমির মা কে জানান। পরে একদিন মুঠোফোনের মাধ্যমে পাওনা টাকাগুলো একবারেই পরিশোধের কথা বলে ব্যবসায়ী শংকরকে চুক্তিনামার দলিলসহ নগরীর হেতেমখাঁ এলাকায় তুহিনের বাসায় ডাকে সুমি। এরপর বিস্কুট ও কোমল পানীয় খাওয়ায়ে ব্যবসায়ী শংকরকে অজ্ঞান করিয়ে চুক্তিনামার মূল দলিলটি হাতিয়ে নেয়। পরে জ্ঞান ফিরলেও স্বাভাবিক হওয়ার আগেই রিক্সাযোগে ব্যবসায়ী শংকরকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তিনি সুস’ হয়ে ঘটনার কারণ জানাসহ পাওনা টাকা চাইতে গেলে তুহিন ওই ব্যবসায়ীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। কিন’ বিভিন্ন সময় তাদের কাছে পাওনা টাকা চেয়েও আদায়ে ব্যর্থ হন শংকর।
লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, এ ঘটনায় সুমির চাচা মুনমুন ওই ব্যবসায়ী শংকরকে মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ডেকে জানায়, ভবিষ্যতে টাকা চাইলে সুমিকে দিয়ে তার নামে ধর্ষণ মামলা করিয়ে জেলে পাঠাবে। একই সাথে শংকরের দুই মেয়ের বড় ধরণের ৰতি করারও হুমকি দেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ২৬ জুলাই নগরীর বড় মসজিদের সামনে সুমি ও তার পরিবারের লোকজনকে দেখতে পেয়ে শংকর পুণরায় তার পাওনা টাকা চায়। তখন সুমিসহ তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ ও শংকরকে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় শংকর নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি জিডি করেন।
বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে শংকর ও তার পরিবারকে পাওনা টাকার কথা ভুলে যেতে বলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও জানান ৰতিগ্রস’ ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় পাওনা টাকা উদ্ধার ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা প্রদান এবং প্রতারকদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতের লৰ্যে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ব্যবসায়ী শংকর।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রাজশাহী ওয়াসার কর্মচারী শামিমা পারভীন সুমির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। আর সুমির মামা তুহিন শেখ সাংবাদিক পরিচয় শুনেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।