এফএনএস: তৈরি পোশাক শিল্পখাতই দেশের রফতানি আয়ের প্রধানতম উৎস। কিন’ ওই খাতের ব্যাপক কাঁচামাল আমদানির কারণে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে রফতানি আয়ের সিংহভাগ। আবার অসাধু রপ্তানিকারকরা অনেক সময় তুলা, সুতা, কাপড় এবং অন্যান্য এক্সেসরিজ বন্ড সুবিধার আওতায় এনে সেগুলো খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। ওভেন খাতে যে পরিমাণ রপ্তানি হয় তার ৬০ ভাগ কাপড় আমদানিনির্ভর। আর নিটওয়্যার খাতে বিগত বছরগুলোতে কাঁচামাল উৎপাদনের পরিমাণ বাড়লেও প্রচুর সুতা আমদানি করতে হচ্ছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে ওই অসাধু উদ্যোক্তারা। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে স’ানীয় শিল্প। এনবিআর এবং বস্ত্র শিল্প সংশিৱষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশিৱষ্ট সূত্র মতে, চলতি বছরের (২০১৯) প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) স’ানীয় মিলগুলোতে উৎপাদন করা মোট পাঁচ লাখ ছয় হাজার ২৪২ টন সুতা বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। আর উদ্যোক্তারা আমদানি করেছেন মোট ছয় লাখ দুই হাজার ৪৩২ টন সুতা। আমদানি করা সুতার সবটুকু বন্ডের মাধ্যমে আমদানি করা হলেও তার পুরোটা রপ্তানিতে ব্যবহার করা হয়নি। বরং অধিকাংশ সুতা আমদানিকারকরা খোলাবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে স’ানীয় কারখানাগুলো এক অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়েছে। শুধু সুতাই নয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে যে পরিমাণ কাপড়ের প্রয়োজন হয় তার সিংহভাগও আমদানি করতে হয়। এ কাপড়গুলোও আসে বন্ডের মাধ্যমে। আর এ খাতে চলছে ব্যাপক অনিয়ম। সুতা এবং কাপড় এনে তা খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়া নিয়মিত রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যে এ ধরনের দুই-একটি ঘটনা উদঘাটিত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘটনার কারিগররা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাজধানীর ইসলামপুরে বন্ডের কাপড় এবং তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল বিক্রি হচ্ছে অহরহ। যেসব এলাকায় তাঁতশিল্প রয়েছে সেগুলোতেও বন্ডের সুতা বিক্রি হচ্ছে দেদারছে। সূত্র জানায়, বিগত ২০১৮ সালে উদ্যোক্তরা মোট ২৮ কোটি আট লাখ কেজি কাপড় আমদানি করেছে। নামসর্বস্ব অনেক কারখানা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করছে বেশি। রপ্তানির চেয়ে খোলাবাজারে বন্ডের পণ্য বিক্রি করার দিকেই তাদের আগ্রহ বেশি। কোনো কারখানার যদি দুই টন সুতা লাগে নিয়ে আসা হয় পাঁচ টন। বাকি তিন টন তিনি খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়া হয়। শুল্কমুক্তভাবে এসব সুতা আমদানির ফলে বিক্রিমূল্যও কম পড়ে। এতে স’ানীয় মিলগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। আবার অনেক সময় কারখানাগুলো বন্ডের আওতায় কাপড় বা সুতা এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার পর মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ থেকে ভুয়া ইউডি (ইউজার্স ডিক্লারেশন) নিয়ে নেয়। এতে বন্ড কর্তৃপক্ষ ওই জালিয়াতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় না। টেক্সটাইল শিল্প মালিকদের পক্ষ থেকে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে বার বার পদক্ষেপ নিতে বলা হলেও কার্যকর উদ্যোগ এখনও শুর্ব করা যায়নি। তবে সামপ্রতিক অতীতে বন্ড জালিয়াতচক্র তাদের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস স’াপনের অনুমতি চেয়েছিল। তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো লবিং করা হলেও টেক্সটাইল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ’র প্রবল বিরোধিতার কারণে সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন জানান, আমরা বন্ড সুবিধার বিরোধী নই। আর প্রকৃত ব্যবসায়ীরা কোনোদিন বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে না। কিন’ পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার হচ্ছে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে এনবিআর এর কর্মকর্তারা আন্তরিক, কিন’ তাদের জনবলের অভাব রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে দেশের রপ্তানি অনেক বেড়েছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে বন্ড অফিসের লোকবল বাড়েনি। এনফোর্সমেন্ট খাতে জনবল বাড়ালে প্রচুর লিকেজের ঘটনা ধরা পড়বে।