স্টাফ রিপোর্টার: ‘গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি আবদুল মজিদ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগে যোগদান করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান সভাপতি) ওমর ফারম্নক চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে। এর পর তিনি ফারম্নকের সমর্থনে কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র হন। পরে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতিও হন।’ ২০১৫ সালের ৭ জুলাই ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সমকালে ছাপা হয় এই তথ্য।
বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রতিবেদনে রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারম্নক চৌধুরীর বিরম্নদ্ধে তুলে আনা হয় এমন আরও অনেক তথ্য। প্রতিবেদনে লেখা হয়, ‘জাহিদুল ইসলাম ছিলেন গোদাগাড়ী জামায়াতের শীর্ষ নেতা। জামায়াতের সমর্থনে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ফারম্নক চৌধুরীর হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। রবিউল ইসলাম ছিলেন গোদাগাড়ী উপজেলা যুবদলের সভাপতি। ২০০৮ সালের নির্বাচনের কিছুদিন আগে পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এর পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এখন তিনি গোদাগাড়ী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।’
সমকালের ওই প্রতিবেদনে ফারম্নক চৌধুরীর ব্যাপারে তার দলের নেতাকর্মীদের বরাতেই জানানো হয়, আওয়ামী-বিরোধী রাজনীতির সক্রিয় কুশীলব থেকে কী ভাবে তিনি আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে ওঠেন।
ওমর ফারম্নক চৌধুরীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভেতরে-বাইরে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। তার অতীত রাজনৈতিক জীবনের সূত্র ধরে বিএনপি-জামায়াতকে আশ্রয় প্রশ্রয়ের অভিযোগের পাশাপাশি, দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় মদদ দেয়ার অভিযোগও ঢাকার একাধিক দৈনিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের একটি সংস্থার অনুসন্ধানে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবেও সাবেক এই শিল্প প্রতিমন্ত্রীর নাম এসেছে গণমাধ্যমে।
সেইসব বিতর্ক চাপা পড়েনি এখনো। তার আগেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে ওমর ফারম্নক চৌধুরীর নাম। এবার আলোচনার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের তৈরি দল ফ্রিডম পার্টিতে তার ভূমিকা। সমপ্রতি ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর এ সংক্রানত্ম এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সারাদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সক্রিয় ফ্রিডম পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে ওমর ফারম্নক চৌধুরীর নামটিও এসেছে। প্রতিবেদনে সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, ফারম্নক চৌধুরী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফ্রিডম পার্টির একটি মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। রাকসুর সাবেক এই ভিপির এমন বিস্ফোরক তথ্যের পর এ নিয়ে শুরম্ন হয় জোর আলোচনা।
এর এক সপ্তাহের মাথায় রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ফারম্নক চৌধুরীর পারিবারিক পরিচিতি ও তার পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বড়সড় অভিযোগ তুলেছেন। রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনার দেশে ওই সাক্ষাৎকারে আসাদ বলেন, ‘তখন আমি ছোট ছিলাম। কিন্তু সেই সময়কার মুক্তিযোদ্ধারা তো বলেন তার (ফারম্নক চৌধুরী) বাবা ছিলেন রাজাকার। আর তার মা যে এখনো জামায়াত করেন, তা তো পরীক্ষিত সত্য।’ তিনি বলেন, ‘শহিদ দুই প্রকার। পাকিসত্মানিরা রাজাকারদের বলে শহিদ আর আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের। তার (ফারম্নক চৌধুরী) বাবা একাত্তরে মারা গেছেন এটা সত্য। কিন্তু কোন ধরনের শহিদ, তা আপনারা বুঝে নেন।’
আসাদ ওই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘ফারম্নক চৌধুরী জামায়াত পরিবারের সনত্মান। আর নিজেও ছাত্রদল করে উঠে এসেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল থেকে ক্রীড়া সম্পাদকের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শুধু তাই না, ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের পক্ষে ভোট করেছেন। তার বেয়াই মিলস্নাত হাওয়া ভবনের লোক।’ আসাদ অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে এলাকায় যতজনকে চাকরি দিয়েছেন তিনি, তার ৭০ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের।
যদিও এর আগে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে ওমর ফারম্নক চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আমার ফ্রিডম পার্টি বা ছাত্রদল করার তথ্য সত্য নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বাবা আজিজুল হক চৌধুরী ও চাচা মকবুল হক চৌধুরীকে তুলে বাবলা বনে নিয়ে হত্যা করে পাকিসত্মানি বাহিনী।’