এফএনএস: জাতীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় সিক্ত হলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) একাংশের সভাপতি অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার লাশ আনা হয় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।
এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিব), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি), জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ কবিতা পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সনত্মানসহ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষ। এসময় অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ ফুলে ফুলে ভরে যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোজাফফর আহমদের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার মেয়ে আইভি আহমদ বলেন, আমার বাবা সারাজীবন গরিব মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশের সংবিধানের চারটি সত্মম্ভ বাসত্মবায়নের মাধ্যমে দেশের সব মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হলেই বাবার স্বপ্নপূরণ হবে।
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। এর আগে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের প্রথম নামাজে জানাজা বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পস্নাজায় অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ পস্নাজায় মোজাফফর আহমদের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ত্যাগের দৃষ্টানত্ম সবার জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রতিটি সংগ্রামে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। বামপন্থিদের মধ্যে প্রথম যিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছয় দফায় বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন জানিয়েছিলেন, তিনি মোজাফফর আহমদ।
তিনি বলেন, তিনি বঙ্গবন্ধুর অত্যনত্ম কাছের মানুষ ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যনত্ম বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের রাজনৈতিক সহযোগিতা পেয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সুযোগ্য সনত্মান, কিংবদনিত্ম নেতা আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে গেলেন। তার প্রজন্মের কেউ আর রাজনীতিতে থাকলেন না। মোজাফফর আহমদ একটি বিশাল বটবৃক্ষের মতো, যে বটবৃক্ষের আজ পতন হলো। এরপর ন্যাপ কার্যালয়ে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের লাশ তার সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। বেলা ১২টায় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে ন্যাপ কার্যালয়ে তার লাশ আনা হয়। এ সময় দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিবিদকে একবার দেখা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার রাজনৈতিক জীবনের অসংখ্য সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙড়্গীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মোজাফফর আহমদের লাশ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাদ আসর তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রোববার কুমিলস্নার দেবিদ্বার উপজেলা নিজ গ্রামে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের দাফন সম্পন্ন করা হবে।
গত শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৯৭ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়া ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাযুদ্ধে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। তার জন্ম ১৯২২ সালে।
১৯৩৭ সালে রাজনীতিতে অংশ নেন। এই রাজনীতি করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মোজাফফর আহমদ দেবীদ্বার থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তদানীনত্মন মুসলিম লীগের শিক্ষামন্ত্রী মফিজুল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নজির সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালে ন্যাপ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ মাওলানা ভাসানীর সঙ্গে থাকলেও অন্য অংশ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নেতৃত্বে আলাদা হয়ে যায়।