এফএনএস: বিশ্বে মিয়ানমারেরও শক্তিশালী বন্ধু থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে সরকার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দুদিন আগে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরম্নর দ্বিতীয় দফা পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও একে সরকারের ব্যর্থতা মানতেও নারাজ তিনি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সরকারের কূটনৈতিক কোনো ব্যর্থতার বিষয় নেই। কৌশলগত বিষয় রয়েছে এবং কৌশলী হয়ে এগোতে হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ডিপেস্নামা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিআরটিসি শ্রমিক কর্মচারী লীগ (সিবিএ) আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তাদের ফেরত পাঠাতে এখানে কূটনৈতিক ব্যর্থতার কোনো বিষয় নেই। এখানে কৌশলগত বিষয় রয়েছে। অনেক সময় দু’পা এগিয়ে এক পা পিছিয়ে যেতে হয়। এটিকে কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলা যাবে না। রোহিঙ্গারা কঙবাজার সীমানত্ম অতিক্রম করে আসার পর মিয়ানমার সরকার সবচেয়ে বেশি চাপ অনুভব করছে। এখানে পরিবেশের বিষয় রয়েছে। মিয়ানমার সরকার সেখানে পরিবেশ সৃষ্টি করেনি, নিরাপত্তা সৃষ্টি করেনি, সিটিজেনশিপের মতো বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি। এজন্য তাদের বিশ্বাস করতে পারেনি রোহিঙ্গারা। তারা অত্যাচারিত নির্যাতিত হয়েছে। এর দায় মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে। অনেক উসকানি দেওয়া হয়েছে। আমরা যুদ্ধের পথে যাব না, শানিত্মর পথে আগাবো। আনত্মর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখব। সেই কৌশলে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। আজকের দিনে যুদ্ধের পথে গিয়ে জয়ী হওয়া যাবে না। শানিত্মকে জয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই লোকগুলোকে (রোহিঙ্গা) সম্মানের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ফেরত পাঠাতে হবে। সে চেষ্টা চলছে। আজকে যারা বলেন এখানে কূটনৈতিক প্রয়াস ব্যর্থ হয়েছে, আমি বলবো তাদের এটা বিগ মিসটেক। সরকারের কূটনৈতিক প্রয়াস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এই ব্যাপারে আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বে মিয়ানমারেরও বন্ধু আছে এবং শক্তিশালী বন্ধু আছে। এশিয়াতেও বন্ধু আছে। বাসত্মবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘদিন স্বৈরাচারি শাসন কায়েম করেছে বলে তারা বন্ধুহীন এটা ভাবার কারণ নেই। আজকের পৃথিবীতে ইকোনোমিক্যাল কারণে, ফিনান্স্যিয়াল কারণে মিত্রতা হয়। সবার একটা অঙ্ক আছে, হিসাব আছে। সেই হিসাবে মিয়ানমারের বন্ধুরা কম শক্তিশালী নয়। কাজেই আমাদের কৌশলী হয়ে এগোতে হচ্ছে। কঙবাজারে যুবলীগের এক নেতা রোহিঙ্গাদের হাতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সেখানে রোহিঙ্গারা ১১ লাখ আর আমাদের লোক ৪ লাখ। রোহিঙ্গাদের মধ্যে সবাই যে নিরীহ-শানত্ম সেটি মনে করার কারণ নেই। তাদের মধ্যে হতাশা আছে, বেপরোয়া মনোভব আছে সেটির একটি বিচ্ছিন্ন প্রকাশ ঘটেছে। কাজেই এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এটা মনে করি না। পরিস্থিতি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার (বিআরটিসি) অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে সরকার কঠিন হতে যাচ্ছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্নীতিমুক্ত না হলে বিআরটিসি লাভের মুখ দেখবে না। লাভের গুড় এখানে পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলে। লাভের গুড় যখন পিঁপড়ায় খেয়ে ফেলে, তখন লোকসান ছাড়া কিছুই হবে না। যারা ওপরে আছেন ভাগাভাগি তারাই করেন। বিআরটিসিকে লাভজনক করতে হবে। এর জন্য আমি সবার সহযোগিতা চাচ্ছি। আমি বিআরটিসির ব্যাপারে কঠিন হতে চলেছি। বিআরটিসি থেকে দুর্নীতি-অনিয়ম বন্ধ করা হবে। নতুন গাড়িগুলো এসে বহর আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। আপনারা সহযোগিতা করলে বিআরটিসিকে লাভবান করা সম্ভব। এই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন, সেই স্বপ্নকে বাসত্মবায়ন করবো।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে প্রথম দিকে প্রক্রিয়ায় একটু ধীরগতি থাকলেও চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ব্যাপারে কারো শিথিলতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি মনিটরিং করছেন। আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। শুধু শোকের মাস পালন করছি না। বিআরটিসি শ্রমিক-কর্মচারী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির ও অর্থ সম্পাদক সুলতান আহমদ।