এফএনএস: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের মাঝে আস্থা তৈরি করতে পারেনি বলেই তারা তাদের দেশে ফিরতে রাজি হচ্ছে না। তবে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তাদের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতেই হবে। আর তাদেরও ফিরে যেতে হবে। গতকাল শনিবার সিলেটে একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ কে আবদুল মোমেন বলেন, সব প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ভেসেত্ম যায়। প্রত্যাবাসনে ব্যর্থতার দায় মিয়ানমারের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মিয়ানমারকে আগেই প্রসত্মাব দিয়েছিলাম রোহিঙ্গাদের ১০০ জন নেতাকে সেখানে নিয়ে যেতে। তাদের প্রত্যাবর্তনের জন্য সেখানে কি কি করা হয়েছে সেগুলো দেখে এসে তারা অন্যদের বোঝাবে। সেখানে চীন ১০০টি এবং ভারত ২৫০ বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে। সেগুলো দেখে এসে তারা যখন অন্য রোহিঙ্গাদের বলতো তখন তারা আশ্বসত্ম হতো। প্রত্যাবর্তনে রাজি হতো। কিন্তু মায়ানমার সেটা করেনি। তাই প্রত্যাবর্তনের ব্যর্থতার দায় তাদেরই। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রানত্ম রোগীদের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এই অনুষ্ঠানে ড. মোমেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ‘মানবিক উন্নয়ন’ হিসেবে উলেস্নখ করে বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের গৃহিত সামাজিক নিরাপত্তায় নানামুখী কর্মসূচির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারত, নেপালসহ অনেক দেশে উন্নয়নের পাশাপাশি ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য অনেক বেশি। বাংলাদেশে উন্নয়নের সাথে সাথে ধনী-দরিদ্রের ফারাক সেভাবে বাড়েনি। তিনি বলেন, সরকার সব সময় অসহায় মানুষকে সহযোগিতায় করে আসছে। এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অস্বচ্ছল ও অসুস্থদের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় আছেন। সিলেটকে ভিড়্গুকমুক্ত করতে চাই। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সিলেটকে ভিড়্গুকমুক্ত করতে প্রশাসন কাজ করছে। আমি আশাবাদী এতে আমরা সফল হব। গতকাল শনিবার সিলেটে দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রানত্ম রোগীদের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। তিনি চান না সমাজ থেকে একটি মানুষও ঝরে পড়ুক।
সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত এসব অর্থ কোনভাবে যেনো বেহাত না হয় সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান তিনি। সিলেট জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে কবি নজরম্নল মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় সমাজসেবা পরিচালক সন্দ্বীপ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহিলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিলেট জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নিবাস রঞ্জন দাস উপস্থিত ছিলেন।