ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমতে শুরম্ন করায় কিছুটা স্বসিত্ম নেমে এসেছে। তবে আমাদের মত জনবহুল দেশ থেকে ডেঙ্গু নির্মূলের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করাই বাসত্মবসম্মত বলে ভাবা হচ্ছে। ঠিক যেভাবে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। এজন্য কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যে ধরনের পদড়্গেপ নেয়া হয়েছে তা দিয়ে যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না সেটা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। কারণ ডেঙ্গু জীবাণুবাহী এডিস মশা নর্দমার ময়লা পানি বা ঝোপ ঝাড়ে বংশ বিসত্মার করে না। এজন্য ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণের বিকল্প নেই।
ঢাকা কেন্দ্রীক ডেঙ্গু বেশ দ্রম্নতই ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুর্ভোগ আর ভোগানিত্মর শেষ ছিল না হাসপাতালগুলোতে। এমন অবস’া প্রতিরোধে সর্বত্র জনসচেতনতা সৃষ্টি, মশা মারা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ওপরই জোর দেয়া হয়েছে। সেটাও হয়েছে প্রচলিত ধারায়। অর্থাৎ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পদড়্গেপ নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব ছিল। তাই রাজধানী থেকে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।
মশা নিধনে প্রচলিত ধারায় নালা-নর্দমা, ময়লা-আবর্জনা, ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার ও ওষুধ ছেটানো হয়। এতে কিউলেক্স মশা মারা গেলেও ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার কিছু হয় না। কারণ এডিস মশা ময়লা পানিতে নয়, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে বংশবিসত্মার করে। তাই বাসাবাড়ি-দালানকোঠার ভেতরে ও বাইরে, নির্মাণাধীন ভবন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চত্বরে, পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা পানি অপসারণ করা না হলে এডিস মশা ও ডেঙ্গু দমন সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন ভিন্ন পদ্ধতি।
বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশে যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে হইচই পড়েছিল তখন পাশের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা শহর কয়েক বছর ধরেই ডেঙ্গু আতঙ্কমুক্ত থাকা চমকই বলা যায়। এটা কলকাতা সিটি করপোরেশনের সফলতা। সারাবছর ধরেই নিবিড় নজরদারি চালিয়ে কোথায়ও পানি জমে না থাকা নিশ্চিত করেছে এই নগর সংস’া। এজন্য এলাকাভিত্তিক কর্মী বাহিনী গঠন করে পরিকল্পিতভাবে অভিযান চালিয়ে এডিসের অবস’ান ও বংশবৃদ্ধির উৎস ধ্বংস করায় কলকাতা নগরীতে এ বছরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রচলিত ধারায় মশা মারা অভিযান বা বর্ষার সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পদড়্গেপ থেকে এ ধরনের ফল পাওয়া যে সম্ভব নয় সেটা বলাই বাহুল্য।
কলকাতার অভিজ্ঞতা অনুসারে এখানেও যদি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স’ায়ী ব্যবস’া নেয়া হয় তবে ভবিষ্যতে এবারের মতো দুর্ভোগে পড়তে হবে না কাউকেই। বিষয়টি সংশিস্নষ্ট সকলেরই বিবেচনায় নেয়াই কাম্য।