এম আই বাবু : ওয়াসায় স্বপ্ন ভঙ্গ রাজশাহীবাসির। মহানগরীতে সুপেয় পানি সরবরাহের লড়্গ্যে সিটি কর্পোরেশন থেকে পৃথক হয়ে ওয়াসার কার্যক্রম শুরম্ন হলে মানুষের আশা ছিল ওয়াসা নগরবাসির সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে সড়্গম হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওয়াসার কার্যক্রমে সন্তুুষ্ট হতে পারছেন না গ্রাহকরা। মোট কথা ওয়াসাকে ঘিরে মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল তা ভেঙ্গে যেতে বসেছে।
ওয়াসা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এক সময় নগরীতে সোচ্চার হয়েছিল মানুষ। মানুষের আশা ছিল সিটি কর্পোরেশন থেকে পৃথক ওয়াসা প্রতিষ্ঠা হলে পানি ব্যবস্থাপনায় মানুষ অধিক সুবিধা ভোগ করবে। কিন্তু কার্যত পৃথক ভবন ছাড়া এড়্গেত্রে তেমন কোন পরিবর্তন নজরে আসেনি মানুষের। নগরীতে প্রায়ই শোনা যায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানি মান সম্মত নয়। গ্রাহকদের অভিযোগ কোন কোন সময় এতো নোংরা পানি সরবরাহ করা হয় যা ব্যবহার অনুপযোগি। খাওয়া তো দূরে থাক হাতে নিতেও রম্নচিতে বাধে। হলুদ বা কালো এবং দুর্গন্ধযুক্ত এই ময়লা পানি নিয়ে গ্রাহকের অভিযোগের শেষ নেই। নগরীর হড়গ্রাম এলাকার জনৈক আবুল বাসার এবং মহিষবাথান এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিড়্গক শামীম আরা সাপস্নাই পানি নিয়ে তাদের সীমাহীন দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন এই প্রতিবেদকের নিকট। তারা জানান বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপড়্গকেও জানিয়েছেন তারা। কিন্তু পরিস্থিতির কোন সুরাহা নাই। এছাড়াও গ্রাহকদের অভিযোগ কোন কোন সময় কালো শেওলাও পাওয়া যায় পানির মধ্যে। নগরীর কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহন কর্মকার বলেন, ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পানযোগ্য নয়। ময়লা ছাড়াও পানিতে প্রচুর আয়রন। পাত্রে সংরড়্গণ করলে লাল সত্মর পড়ে যায়। ফুটিয়ে পান করতে গিয়ে দেখা যায় নিচে সাদা সত্মর। নগরীর রাণীনগর এলাকার গৃহবধূ সাঈদা রায়হানা বলেন, এই পানি কেবল রান্নাবান্না ও ধোয়া-মোছার কাজে লাগে। ওয়াসার পানিতে গোসল করাও যায় না। এক টানা ১০ দিন গোসল করলে চুল নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ নিরম্নপায় হয়েই এই পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। অন্যান্য এলাকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ জানা যায়। তবে কোন কোন এলাকার গ্রাহক জানান দুপুরের দিকে পরিষ্কার পানি পেয়ে থাকেন তারা।
এসব অভিযোগ বিষয়ে ওয়াসা কর্তৃপড়্গের বক্তব্য, পানি সরবরাহ লাইনের ত্রম্নটির কারণে কোন কোন এলাকায় ঘোলা বা গন্ধযুক্ত পানি পেয়ে থাকেন গ্রাহকরা। খোঁজ নিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে। অনেকের ধারণা এটা ড্রেনের ময়লা। গ্রাহকদের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশন থেকে পৃথক হওয়ার পর পানির বিল এবং আওতা বাড়লেও বাড়েনি সরবরাহকৃত পানির মান। যা নিয়ে অসনেত্মাষ বিরাজ করছে গ্রাকদের মধ্যে। অন্য একটি সূত্র বলছে, পানির সরবরাহ পাইপ স্থাপনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই পাইপগুলি পরিস্কার না করায় এবং স্থানে স্থানে লিকেজের কারণে এই ধরনের সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে শোধন ছাড়াই নগরবাসীকে কথিত সুপেয় পানি সরবরাহ করছে রাজশাহী ওয়াসা। তথ্যমতে এই পানির ৯৬ শতাংশ জোগান আসছে ভূগর্ভ থেকে। রাজশাহী ওয়াসার একটি সূত্রে জানা গেছে নগরীতে ৫টি পানি শোধনাগার রয়েছে। পদ্মার পানি নির্ভর শ্যামপুরে একমাত্র ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগারটি সচল থাকে বছরে ৪ মাসের মত। বাকি চারটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার চালুর কিছুদিন পর থেকেই বিকল। এই অবস্থায় ৯৬টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরাসরি ভূ-গর্ভস্থ পানি গ্রাহককে সরবরাহ করছে ওয়াসা। সূত্র আরো জানায় ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৩০ জন অধিবাসীর এই শহরে ওয়াসার পানি সরবরাহের আওতায় এসেছে ৪ লাখ ৪ হাজার ২১০ জন। শতকরা হিসাবে পানি ভোগির আওতায় ৭৩ দশমিক ২৮ শতাংশ। ওয়াসার গ্রাহক ৪২ হাজার ৬৮০। সবমিলে প্রতিদিন পানির চাহিদা ১১ দশমিক ৩৩ কোটি লিটার। কিন্তু উৎপাদিত হচ্ছে ৭ দশমিক ৭৮ কোটি লিটার। এর ৯৬ শতাংশই আসছে ভূগর্ভ থেকে। জনপ্রতি দৈনিক ১৯০ দশমিক ৭৪ লিটার পানি উৎপাদন হলেও ব্যবহার হচ্ছে ১২৬ দশমিক ৩০ লিটার। নগরজুড়ে ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন রয়েছে ৭১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। দৈনিক ৫ দশমিক ১০ কোটি লিটার পানি বিক্রি করছে ওয়াসা। সংস্থাটি দিনে ১২ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন সংশিস্নষ্টরা।
ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে গ্রাহকের মাঝে। যদিও উন্নত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পানি সরবরাহ বিভাগ ভেঙে আলাদা ওয়াসার যাত্রা। তবে গত আট বছরে মানুষের চাওয়া পাওয়া বা লড়্গ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি এমন অভিযোগ নগরবাসির।
সমপ্রতি রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় রাজশাহীতে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্প বাসত্মবায়িত হলে পদ্মার পানি শোধন করে রাজশাহী নগরী ও এর আশেপাশের পৌর এলাকায় সরবরাহ হবে। তথ্য অনুযায়ি এই শোধনাগারে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার পানি শোধন হবে। পরিশোধিত পানি সরবরাহে গড়ে তোলা হবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে প্রধান সরবরাহ লাইন থাকবে ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এছাড়া ৪৮ কিলোমিটার প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি সরবরাহ লাইনও থাকবে। ভূ-উপরিস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণ হবে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে। এরই মধ্যে ৫৩ দশমিক ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। সেই সুদিনের অপেড়্গায় রাজশাহীবাসি।