স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি নিয়ে ছিলো জেলা পরিষদের ডাকবাংলো। এর মধ্যে জমির পশ্চিম দিক থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপির) কাছে বিক্রি করে জেলা পরিষদ। আর পূর্বের অংশের ডাকবাংলো ভাড়া নিয়ে চলছিল আরএমপি সদর দপ্তরের কার্যক্রম। কিন্তু এখন পুরো জমিটিই দখলে নিয়েছে আরএমপি।
এখন সেখানে আরএমপির স্থায়ী সদর দপ্তরের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। আর এ জন্য জেলা পরিষদের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ডাকবাংলোটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত ৬ মে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিবসহ সকল সদস্য আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে দেখা করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
কিন্তু পুলিশের পড়্গ থেকে কাজ বন্ধ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যনত্ম গড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আনত্মঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কড়্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পরিষদ ও আরএমপির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। উভয়পড়্গের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের গঠন করে দেয়া এই কমিটি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাপজোখ করে জমির সীমানা নির্ধারণ করবে বলে সভায় সিদ্ধানত্ম হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এমন একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব আজীজ হায়দার ভুঁইয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইফফাত আরা মাহমুদ ও আরিফুল ইসলাম খান, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাব উদ্দীন, উপ-মহাপরিদর্শক আবু হাসান মাহমুদ, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীর, স্থানীয় সরকার বিভাগের রাজশাহীর পরিচালক শ্যাম কিশোর রায়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পারভেজ রায়হান, জেলা পরিষদের সদস্য রবিউল আলম, আবুল ফজল প্রামাণিক প্রমুখ।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোটি পুলিশ ভাড়ায় ব্যবহার করতো। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ভাড়া পরিশোধ করে আরএমপি। পরবর্তীতে আর ভাড়া প্রদান করা হয়নি। তবে জেলা পরিষদের ৫ দশমিক ৯৫ একর জমি থেকে ১ দশমিক ৩৯ একর জমি কেনার পর বাকি জমিটুকুও বিক্রির জন্য পুলিশের পড়্গ থেকে প্রসত্মাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তখন জেলা পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান না থাকার কারণে জমি বিক্রি করা যায়নি। ওই সময় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নির্বাচিত চেয়ারম্যান আসার পর বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা হবে।
পরবর্তীতে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান এলেও পুলিশের কাছে জমি বিক্রি করা হয়নি। কিন্তু তারপরেও জেলা পরিষদের জমি দখল করে এ বছরের ফেব্রম্নয়ারি থেকে আরএমপির স্থায়ী সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ শুরম্ন হয়ে গেছে। এর আগে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে আরএমপি নিজেদের জেলা পরিষদের জায়গা দখল করে ডাকবাংলোর সামনে প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ শুরম্ন করে। তখনও জেলা পরিষদের পড়্গ থেকে বাধা দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ঠিকই সেই প্রধান ফটক নির্মাণ করেছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৭ জুলাই জেলা পরিষদ আরএমপির কাছে বিক্রি করে দেয়া জমির সীমানা বুঝিয়ে দেয়। তখন সীমানা পিলার স্থাপন করা হয়। এই বিক্রি করা জমির মধ্যে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পাঁচ শতাংশ পড়েছিল। কিন্তু ২০১৫-১৬ অর্থবছরের পর ভাড়া প্রদান না করেই পুলিশ পুরো ডাকবাংলোটি অবৈধভাবে দখলে রাখে। পরবর্তীতে এ বছরের ফেব্রম্নয়ারিতে ডাকবাংলোটি ভাঙতে শুরম্ন করে। এ নিয়ে ২০ ফেব্রম্নয়ারি এবং ১৮ মার্চ দুটি চিঠি দেয় জেলা পরিষদ। কিন্তু তারপরেও ডাকবাংলো ভাঙা বন্ধ করা হয়নি। বরং পুরো জমিটিই দখলে নিয়ে আরএমপির সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ চলেছে। শেষ পর্যনত্ম বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। এরপরই অনুষ্ঠিত হলো আনত্মঃমন্ত্রণালয় সভা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, চিঠিতে কাজ না হওয়ায় আমরা স্বশরীরে আরএমপি কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নির্মাণ কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেছিলেন, রাজশাহীতে নতুন এসেছেন, জমির বিষয়ে কিছুই জানেন না। খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়টির সমাধান করবেন। কিন্তু শেষ পর্যনত্ম সমাধান হয়নি। তবে এখন জমির সীমানা নির্ধারণে একটি কমিটি হয়েছে। আশা করছি, দ্রম্নত সময়ের মধ্যেই উদ্ভুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল শুক্রবার রাত ৯টার দিকে আরএমপি কমিশনার হুমায়ুন কবীরকে ফোন করা হয়। তবে তিনি ফোনটি না ধরে কেটে দিয়েছেন। আর আরএমপির মুখপাত্র গোলাম রম্নহুল কুদ্দুসকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। তাই পুলিশের পড়্গ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।