তৈয়বুর রহমান: বারবার কথা দিয়েও শুরম্ন হচ্ছে না আলুপট্টি-তালাইমারী সড়ক প্রশসত্মকরণের কাজ। রাসিক কর্তৃপড়্গ কথা দিয়েছিলেন জুলাই মাসে সড়কের পাশের ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে প্রশসত্মকরণের কাজ শুরম্ন করা হবে। অথচ অদ্যাবধি অধিগ্রহণের কাজে হাতই দেয়া হয়নি। এরফলে অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাসত্মাটির প্রশসত্মকরণের কাজ।
প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ২০১৫-এর জানুয়ারিতে শুরম্ন হয়ে ২০১৭ সালের মধ্যে সড়কটির প্রশসত্মকরণের কাজ শেষ করার কথা ছিল। ঠিক কি কারণে পাঁচ বছরেও আলুপট্টি-তালাইমারী সড়কের প্রশসত্মকরণের কাজে হাত দেয়া হচ্ছে না তা কারো বোধগম্য নয়। সড়কটি প্রশসত্ম না হওয়ায় চলাচলের জন্য বিপদজনক হয়ে উঠছে এই ব্যসত্মতম সড়কটি।
সড়কের দড়্গিণ ধার ঘেঁষে ইতোমধ্যে ফুটপাত তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এতে করে সড়কটি আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অথচ প্রশসত্মকরণের ওপরই নির্ভর করছে সড়কটিতে নিরাপদ চলাচল। সড়কটি সংকুচিত হওয়ায় যানবাহন চলাচলের ড়্গেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশসত্মকরণের কাজে হাত না দেয়ায় অনিশ্চয়তায় ঝুলে পড়েছে সড়কটির কাজ।
এর আগে রাসিকের প্রকৌশল বিভাগ থেকে জানানো হয়েছিল ২০১৮-এর ডিসেম্বরের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করে ২০১৯-এর ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটির প্রশসত্মকরণের কাজ শেষ করা হবে।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে রাসিক কর্তৃপড়্গ বারবার কথা দিলেও সড়কটির উন্নয়ন কাজ এগুচ্ছে না। ইতোমধ্যে ৪ বছর পার হয়ে গেছে, ভূমি অধিগ্রহণে হাতই দেয়া হয়নি। এ সম্পর্কে রাসিক প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হককে জিজ্ঞেসা করা হলে অতিতের মতই বললেন সড়কটি প্রশসত্মকরণের জন্য আগামী মাসেই অধিগ্রহণ শুরম্ন হবে। এর আগেও বলেছিলেন এবছর ভূমি হুকুম দখল করে আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে প্রশসত্মকরণের কাজ শেষ করা হবে। যেখানে প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী ৪ বছরে কাজে হাত দেয়া হয়নি সেখানে কি করে ১ বছরে কাজ শেষ করবে তা নগরবাসীর বোধগম্য নয়।
আলুপট্টি-তালাইমারী সড়ককে নগরীর প্রবেশদ্বার বলা হয়। তাই এই সড়কটি প্রশসত্মকরণ অতিব জরম্নরি। প্রকল্প মতে সড়কটি ফুটপাতসহ ৬৭ ফুট চওড়া হবার কথা। এ সড়কটি প্রশসত্ম হলে রাজশাহী নগরীর যোগাযোগের ড়্গেত্রে যুগানত্মকারি পরিবর্তন সূচিত হবে। নগরীতে অনেক নিত্য-নতুন প্রশসত্ম সড়ক তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে। অথচ কেন যে এই গুরম্নত্বপূর্ণ সড়কটির প্রশসত্মকরণের কাজ দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ থাকার কারণে জনদুর্ভোগ কাটছে না চলাচলকারী ও আশপাশের আধিবাসীদের।
আলুপট্টি-তালাইমারী সড়কটির কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নগরবাসীর মনে। এক সূত্রে জানা গেছে ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হওয়ায় সড়কটি নির্মাণ কাজে দেরি হচ্ছে। এতে খরচও বেরেড় যাবে। মামলা মোকদ্দমার কারণে সড়ক নির্মাণে দেরি হওয়ার কথা অস্বীকার করে করে রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, কোন কারণই সড়ক নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
আলুপট্টি-তালাইমারী সড়কটির প্রশসত্মকরণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে জনগণের মাঝে সন্দেহ দেখা দিয়েছে, সড়কের টাকা ফেরৎ যাবে না তো ? আর রাজশাহীর মানুষের ঘর পোড়া গরম্নর সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পাওয়ার মত অবস’া। অতীতে রাজশাহীর উন্নয়ন প্রকল্পের অনেক অর্থ ফেরৎ যাবার ঘটনা রয়েছে।
রাজশাহীর সৌন্দর্যকরণের লড়্গ্যে এই সড়কের পাশে শহর রড়্গা বাঁধ ঘেঁষেই পুরাতন ড্রেন ভেঙে তার ওপরই নির্মাণ করা হয়েছে ফুটপাত। ফুটপাতে সড়কের বেশ কয়েক ফুট জায়গা চলে যাওয়ায় সড়কটি আর অপ্রশসত্ম হয়ে পড়েছে। এতে সড়ক দিয়ে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচল বিপদজনক হয়ে উঠেছে।
নগরীর খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ সড়ক হচ্ছে এই আলুপট্টি-তালাইমারী সড়কটি। পূর্ব দিক থেকে রাজশাহী নগরীতে প্রবেশের একমাত্র ও প্রধান পথ হচ্ছে এটি। এই সড়ক পথ দিয়েই নগরীর বাইরে যাচ্ছে অসংখ্য ছোট-বড় গাড়ি। শহরের পূর্ব প্রানেত্ম রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ছোট-বড় বহু শিড়্গা প্রতিষ্ঠান। নগরীর পশ্চিম প্রানত্ম থেকে পূর্ব প্রানত্ম পর্যনত্ম ছোট-বড় অনেক যানবাহনে ছাত্রছাত্রীসহ অসংখ্য কর্মব্যসত্ম মানুষ চলাচল করে এই সড়ক দিয়েই। অথচ জনগণের দুর্ভোগের কথা না ভেবে এই সড়কের প্রশসত্মকরণে অনর্থক সময় ড়্গেপণ করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ না করায় সিত্মমিত হয়ে পড়েছে রাসত্মার কাজ। এখন রাসত্মার উন্নয়নে কোন কাজই হচ্ছে না।
একদিকে অপ্রশসত্ম তার ওপর আঁকাবাঁকা সড়ক যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলকে কষ্টসাধ্য করে তুলেছে। ঘনঘন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ইতোমধ্যে হাদির মোড়, কেদুর মোড় ও বাসার রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যুও হয়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। ছোট-খাটো দুর্ঘটনা অহরহ ঘটছেই। আর যানজটের কারণে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী সড়কটির প্রশসত্মকরণের কাজ দ্রম্নত শেষ করে এই দুর্ভোগ থেকে রড়্গার দাবি জানিয়েছেন।
উলেস্নখ্য যে ২০১৫ সালে একনেকে আলুপট্টি-তালাইমারী সড়কটির প্রশসত্মকরণ প্রকল্পটি পাস হয়। ভূমিঅধিগ্রহণসহ সড়কটির সম্পূর্ণ প্রশসত্মকরণ করতে উক্ত প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। ২০১৫-এর জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরম্ন করার কথা ছিল।
সরকার এই সড়কের গুরম্নত্বের কথা চিনত্মা করেই একনেকে রাসত্মা প্রশসত্মকরণের বিল পাস করে। অথচ দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যনত্ম ভূমি অধিগ্রহণের কাজই শুরম্ন হয়নি।
কবে নাগাদ ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরম্ন হবে এবং সড়কটির নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হবে কি না জিজ্ঞেস করা হলে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আগামি মাস থেকে সড়কের পাশের ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরম্ন হবে। সড়কের আওতার মধ্যে যে সব বাড়ি-ঘর পড়বে তা ভাঙার কাজ শুরম্ন হবে। ভূমি হুকুম দখল করেই ২০১৯ সালের মধ্যে আলুপট্টি-তালাইমারী সড়ক প্রশসত্মকরণের কাজ শেষ হবে। কোনো মামলা মোকদ্দমার কারণে সড়ক নির্মাণে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে জানান তিনি।