স্টাফ রিপোর্টার: বখাটেদের হাতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষক লাঞ্ছনার রেস কাটেনি। এরই মধ্যে এবার যৌন হয়রানির শিকার হলেন রুয়েটের এক শিক্ষার্থী।
গতকাল সোমবার নগরীর ভদ্রা-রেলগেট সড়কে চলন্ত অটোরিকশায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন। তার বাড়ি ঢাকা। তবে পুরো পরিবার থাকেন রাজশাহী নগরীর উপশহরে।
ঘটনার পর আইনের আশ্রয় নেননি ওই শিড়্গার্থী। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি লিখেছেন, গতকাল রুয়েট থেকে বাসায় ফিরতে অটোরিকশায় ওঠেন। অটোতে রুয়েটের আরও দুই সিনিয়র শিক্ষার্থী এবং একজন অপরিচিত ব্যক্তি ছিলেন। কিছুটা পথ যাওয়ার পর রুয়েটের দুই শিক্ষার্থী নেমে যান।
এরপর শুধু ওই অপরিচিত ব্যক্তি এবং ওই শিড়্গার্থী অটোরিকশায় থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর অটোরিকশা চালক ওই ব্যক্তিকে নামিয়ে দেন। চালক তাকে বলেন, আপনি নেমে যান। আমি আমার নিজস্ব লোক তুলবো। শিড়্গার্থী কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তিকে অটোরিকশা থেকে জোর করে নামিয়ে দেয় চারজন ‘গুণ্ডা’। অটো চলতে শুরু করলো। এরপরই অটোরিকশার ভেতর তাকে যৌন হয়রানি করা হয়। মেয়েটি চিৎকার করতে থাকলে অটোরিকশা চালক তখন হাসছিলেন।
ওই শিক্ষর্থী তার ফেসবুক পোস্টে বলেছেন, নগর ভবনের সামনে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওই চার ব্যক্তি তাকে অটোরিকশা থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি লেখেন, যতক্ষণে নিজের পায়ে দাঁড় হতে পেরেছি ততক্ষণে অটো বহুদূর। কাহিনীটা শুধু শেয়ার করলাম। এইটা বাংলাদেশ, কোনো বিচারের আশা আমি করছি না। তিনি আরও লেখেন, অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে আমার পোশাক কি ছিলো? সাধারণ বাঙালী নারীর মতো সালোয়ার-কামিজ।
এ বিষয়ে রুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. মো. শামীম আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আমাদের একজন নারী শিড়্গক মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছেন।
রম্নয়েটের ওই নারী শিড়্গকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ইদানিং এই ধরনের ঘটনা বেড়ে গেছে। আমি নিজেও আজ বিব্রতকর পরিসি’তিতে পড়েছিলাম। তিনি জানান, রম্নয়েটের প্রধান ফটকের সামনে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। তখন মোটরসাইকেল নিয়ে এসে একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি গিয়ে তাকে বলেন, যাবে নাকি? ওই শিড়্গিকা তখন বলেন, তুই দাঁড়া। সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। ওই শিড়্গিকা বলেন, দিন দিন পরিসি’তি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমার তো বয়স হয়েছে। আমাকেও এমন পরিসি’তির শিকার হতে হলো।
এদিকে অটোরিকশার ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে ওই শিড়্গার্থীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সহপাঠী শামিউল ইসলাম ফোনটি ধরেন। শামিউল বলেন, তার সহপাঠী বিশ্রামে আছেন। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমে কথা বলবেন না। শামিউল জানান, পুলিশের সামনেই তার সহপাঠীকে অটোরিকশা থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ অটোরিকশার নম্বরটি পর্যনত্ম তুলতে পারেনি। তাই থানা-পুলিশের কাছে যেতে তার সহপাঠীর কোনো ইচ্ছা আপাতত নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ফেসবুকের স্ট্যাটাসের খবর জেনে আমরা নানাভাবে ওই শিড়্গার্থীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেছেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন না। এখন আমরা কী ব্যবস’া নিতে পারি!
এর আগে গত ১০ আগস্ট ঈদের কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিলেন রম্নয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিড়্গক রাশিদুল ইসলাম। নগরীর সাহেববাজার মনিচত্বর এলাকায় একদল বখাটে তখন তার স্ত্রীকে ধাক্কা দেন। এ সময় বখাটেদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাশিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে অটোরিকশায় চড়ে বসেন। তারপরেও বখাটেরা সমানে কটূক্তি করতে থাকে। রাশিদুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে বখাটেরা অটোরিকশায় বসে থাকা অবস’ায় শিড়্গককে মারধর করে।
এ ঘটনায় ওই শিড়্গকের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আট তরম্নণ-তরম্নণীকে আসামি করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেছেন। তবে গতকাল পর্যনত্ম কাউকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে ঘটনার প্রত্যড়্গদর্শী খুঁজতে গতকাল মনিচত্বর এলাকা ৯ জন ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিজেদের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাশিদুল ইসলামের বাসায় গিয়েছেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। এ সময় তিনি তাকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
বলেছেন, রাজশাহী শানিত্মর নগরী। এই শহরে বখাটেদের দৈরাত্ম বাড়তে দেওয়া হবে না। বাদশা বলেন, ঘটনার খবর শুনেই তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। দ্রম্নত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য বলেছেন।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় ভুক্তভোগী ওই শিড়্গকের বাসায় যান। এ সময় তিনি শিড়্গক রাশিদুলসহ তার বাবা, মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বসে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সব সময় পাশে থাকার।
গত ১০ আগস্ট ঈদের কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিলেন রম্নয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিড়্গক রাশিদুল ইসলাম। একদল বখাটে তখন তার স্ত্রীকে ধাক্কা দেন। এ সময় বখাটেদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাশিদুল ইসলাম তার স্ত্রীকে নিয়ে অটোরিকশায় চড়ে বসেন। তারপরেও বখাটেরা কটূক্তি করতে থাকে। রাশিদুল ইসলাম এর প্রতিবাদ করলে বখাটেরা অটোরিকশায় বসে থাকা অবস’ায় শিড়্গককে মারধর করেন।
সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে কাছে পেয়ে শিড়্গক রাশিদুল ইসলাম বলেন, এই শহরে আমি জন্ম নিয়েছি, পড়াশোনা করেছি। এই শহরে শিড়্গকতা করছি। আর এই শহরেই বখাটেদের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হওয়াটা ভীষণ কষ্টের। বখাটেদের বিরম্নদ্ধে কঠোর ব্যবস’া নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, রাজশাহীর সুনাম অড়্গুণ্ন রাখতে হলে সব বড় সড়কগুলোতে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসাতে হবে। তা না হলে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, কিন’ অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে না। রাজশাহীর সুনাম তখন নষ্ট হবে। বাইরের জেলা থেকে কেউ এলে অনিরাপদ মনে করবে।
শিড়্গক রাশিদুল ইসলামকে সানত্মনা দিয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, জীবনে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটে। কিন’ এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীরা যেন শাসিত্মর মুখোমুখি হয় তার জন্য তিনি সব ধরনের পদড়্গেপ নেবেন।