সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সাধারণত দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। ফলে মৌলিক অধিকার ও ন্যায়বিচার থেকেও দূরে থাকে তারা। বর্তমান সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মঙ্গলে অতীতের যে কোনো সরকারের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও কোনো কোনো ৰেত্রে ব্যত্যয় অস্বীকার করা যাবে না। এ প্রসঙ্গে নওগাঁর আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যা মামলাসহ ৰুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগণের ওপর হামলা, নির্যাতন-নিপীড়নের বিচারের কথা উলেৱখ করা যায়।
২০০০ সালের ১৮ আগস্ট নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার ভীমপুর আদিবাসী পলৱীর জমি দখল করতে এসে প্রতিরোধের মুখে ভূমিদস্যু সীতেষচন্দ্র ভট্টাচার্য গদাই ও হাতেম আলী গংয়ের সন্ত্রাসীদের হামলায় আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন নৃসংশভাবে খুন হন। সে সময় সন্ত্রাসীরা ব্যাপকভাবে তা-ব চালিয়ে আদিবাসী পলৱীর ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। তাদের হামলায় আদিবাসী মহিলা-শিশুসহ প্রায় ৩০ জন মারাত্মকভাবে আহত হন। ওই সন্ত্রাসী ঘটনার পর শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য সেখানে একটি অস’ায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসে। তখন ৰমতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার থাকায় পুলিশ প্রশাসন তড়িৎ পদৰেপ গ্রহণ করেছিল।
ঘটনার তদন্ত শেষে হত্যা ও জননিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলায় পুলিশ ৯১ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। স’ানীয় আদালতে সাৰ্য গ্রহণও শুর্ব হয়। এর মধ্যেই সরকার পরিবর্তনের ফলে চার দলীয় জোট ৰমতায় আসলে হত্যা মামলার ৬০ জনেরও বেশি আসামি জামিন পেয়ে যায়। পলাতক মূল আসামিরা ফিরে এসে অব্যাহত ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি দিয়ে আদিবাসী পলৱীর অনেককেই অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করে। সেখানকার ৬৩ বিঘা জমির মধ্যে ৩৩ বিঘা জমি দখল করে নেয় আসামি পৰ। এখন বাকী জমি দখলের অপচেষ্টা চলছে। আলফ্রেড সরেনের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব অভিযোগের সাথে অবিলম্বে এই হত্যা মামলার সুরাহা করে ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।
দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে এই দাবি জানানো সত্ত্বেও চাঞ্চল্যকর আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচারে গতি আসছে না কেন সে প্রশ্ন এখন বড় হয়ে উঠেছে। কথায় বলে বিচার দেরি হওয়ার অর্থ বিচার অস্বীকার করা। কোনো সভ্য দেশে এমনটা মেনে নেয়া যায় না। এজন্য বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাকেই দায়ী করা যায়। এমন অবস’ার পরিবর্তন জর্বরি হয়ে পড়েছে।
আদিবাসী নেতা আলফ্রেড সরেন হত্যার বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে শীর্ষ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি আমরা।