স্টাফ রিপোর্টার: পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিডিউল বিপর্যয় কাটছেই না। এতে যাত্রীরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে বসে তারা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্মরণকালের ভয়াবহ এই সিডিউল বিপর্যয় কবে নাগাদ কাটবে তা বলতে পারছেন না কেউ।
সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে থেকে পশ্চিমাঞ্চল রেলপথে অচলাবস’া চলছে। যার ধকল ঈদের পরও কাটেনি, বরং বেড়েছে। ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে রাজশাহী থেকে সকাল ৭টার সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল রোববার ছেড়েছে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে। আগের দিন শনিবার রাতের ধূমকেতু ছেড়েছে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায়। এর আগে শনিবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আনত্মঃনগর ট্রেন পদ্মা এক্সপ্রেস ছেড়েছে রাত ১০টায়। রাজশাহী থেকে ঢাকামুখী ট্রেনগুলোর সিডিউলের এই অবস’া। প্রতিটি ট্রেনই প্রায় ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে!
গতকাল রোববার রাজশাহী স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, রাতের ধূমকেতু ট্রেনটি সকালে পস্নাটফর্মে আসলে ট্রেনে কয়েকশ যাত্রী হুড়মুড়িয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন। ছোট-বড় ব্যাগ,বসত্মা মালামাল নিয়ে নির্ঘুম যাত্রীদের চোখেমুখে রাজ্যের ক্লানিত্মর ছাপ ছিল। সারা রাত মশার কামড় ও গরমে নির্ঘুম রাত কেটেছে অনেকের।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে যাচ্ছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেঘলা রহমান। তিনি বলেন, রাত ১১টা ২০ মিনিটে ধূমকেতু এক্সপ্রেসের ছাড়ার কথা ছিলো। কিন’ ট্রেনটি পরদিন সকাল ৭টায় রাজশাহীতে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ আট ঘণ্টা ভারি ব্যাগ নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনের পস্নাটফর্মেই অপেক্ষা করতে হয়।
পদ্মা এক্সপ্রেসে রওয়ানা দেওয়া এক যাত্রী জানান, পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাজশাহী থেকে শনিবার বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি ছাড়ে রাত ১০টায়। প্রতিটি স্টেশনে ট্রেনটি অতিরিক্ত সময় বিলম্ব করতে থাকে। অবশেষে ট্রেনটি রাজধানী কমলাপুরে পৌঁছায় ভোরে। তার পৌঁছানোর কথা ছিলো শনিবার রাত ১০টায়।
যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিটি বগিতে ৬০-৬২ জন যাত্রীর সিট থাকলেও অনত্মত দেড় থেকে ২ শতাধিক যাত্রী উঠে পড়ছে। যাদের অধিকাংশেরই টিকেট ছিল না। এ ভিড়ের সুযোগে পকেটমার-মলমপার্টিও তৎপর ছিল। অনেকের মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেন যাত্রীরা। এ সময় কোনো রেল পুলিশ বা চেকারের সহায়তা চেয়েও পাওয়া যায়নি। আবার কোনো কোনো রেল পুলিশ, আনসার বা চেকারকে টিকেটবিহীন যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেন অনেক যাত্রী। ট্রেনের ভেতরে দাঁড়াতে না পেরে ছাদে চড়েও অনেক যাত্রীকে ফিরতে দেখা যায় রাজধানীতে।
রাজশাহী থেকে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমার্সিয়াল ম্যানেজার এএএম শাহ নেওয়াজ জানান, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে হচ্ছে প্রতিটি ট্রেন। ট্রেনের ভেতর যাত্রী উপচে পড়ছে। ছাদও ফাঁকা নেই। তাই গতির চেয়ে এখন যাত্রীদের নিরাপত্তার কথাই আগে ভাবতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমিয়ে আনা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে ট্রেন গনত্মব্যে পৌঁছাতে পারছে না। আর নির্ধারিত সময়ে আসতেও পারছে না। তাই ভয়াবহ সিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সিঙ্গেল লাইন যতদিন ডাবল না হবে ততদিন ট্রেনের সিডিউল ঠিক রাখা কঠিন। কেননা, একই লাইনে একাধিক ট্রেন চলাচল করে। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে একটি ট্রেন ধীরগতিতে চলে যাওয়ার পর অন্যটি সিগন্যাল পায়। এছাড়া রাজধানীতে ফেরার পথে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপে কোথাও কোথাও একেবারেই গতি কমিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। সে কারণে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় কাটছে না।