স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের ছুটির পর আবারও চেনা রূপে ফিরেছে রাজশাহী। সড়কগুলোতে বেড়েছে অটোরিকশার সংখ্যা। খুলেছে খাবারের হোটেলগুলো। অফিস-আদালতেও কর্মব্যসত্মতা। ঈদ করতে বাড়ি যাওয়া শিড়্গার্থীরাও আসছেন শিড়্গানগরীতে। ঈদ শেষে আবার সবাই যে যার মতো ব্যসত্ম হয়ে উঠেছেন।
এবার পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটি ছিল তিন দিন। ঈদের আগের দিন ১১ আগস্ট, ঈদের দিন ১২ আগস্ট এবং তার পরের দিন ১৩ আগস্ট। ১৪ আগস্ট ছুটি ছিল না। ১৫ আগস্ট সরকারি ছুটি থাকলেও জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পালনের জন্য অফিস খোলা ছিল। ১৬ ও ১৭ আগস্ট শুক্র এবং শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি।
সরকারি ছুটির হিসাব অনুযায়ী, ঈদের ছুটি শেষে গত ১৪ আগস্ট বুধবার থেকেই অফিসে কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে। কিন’ একাধিক অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৪ আগস্ট অনেকেই একদিন ছুটি নিয়েছিলেন। অনেকে ছুটি না নিয়েও আসেননি। আর ১৫ আগস্ট কেবল শহরে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই শোক দিবস পালন করেছেন। যারা ঈদ করতে গ্রামে গিয়েছিলেন তারা আসেননি। মূলত ঈদের এবং সাপ্তাহিক ছুটি শেষে গতকাল রোববার থেকেই অফিসগুলোতে কার্যক্রম শুরম্ন হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, আমি ১৪ তারিখ থেকেই অফিস করছি। ১৫ তারিখ সারাদিন শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করেছি। তবে যারা ঈদ করতে একটু দূরে গিয়েছিলেন তারা দু’একদিন বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন। তাদের ছুটিও শেষ হয়েছে। রোববার সবাই অফিস করেছেন।
এদিকে ঈদের সময় রাজশাহী মহানগরীতে ছিল না চিরচেনা রিকশা-অটোরিকশার যানজট। শনিবার ছুটির দিন দুপুর পর্যনত্মও নগরীর সড়কগুলোতে এসব যানবাহনের পরিমাণ ছিল কম। তবে বিকাল থেকেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। রোববার সকাল থেকে তো সড়কগুলো রিকশা-অটোরিকশায় আবার পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।
নগরীর বিনোদপুর মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশা চালক কামাল হোসেন বলেন, মানুষজন ঈদ শেষে শহরে ফিরেছেন। মানুষের চাপ বেড়েছে। তাই আবার অটোরিকশাও বেড়ে গেছে। সাহেববাজার, রেলগেট, লক্ষ্মীপুর, বর্ণালী মোড় এবং শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় আবার যানজট শুরম্ন হয়েছে।
সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে মুড়িভাজা বিক্রি করছিলেন হকার কালাম হোসেন। তিনি জানান, বাড়ি তার তানোরে। ঈদ করতে ঈদের আগের দিন বাড়ি গিয়েছিলেন। শনিবার ফিরেছেন। তার ব্যবসাও ভালো চলছে।
গতকাল রোববার সকালে নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ শেষে এখনও অনেকে শহরে ফিরছেন। নাটোর সদর থেকে বাসে চড়ে আসেন একটি বেসরকারি সংস’ার কর্মকর্তা বুলবুল হোসেন। তিনি বলেন, পাশের জেলাতেই গ্রামের বাড়ি। তাই ঈদ শেষে অফিস শুরম্নর দিনই এলাম। সকাল সকাল রওনা দিয়েছিলাম। এখন বাসায় গিয়ে ব্যাগপত্র রাখবো, ফ্রেস হবো। তারপর অফিসে যাব।