ঈদের আনন্দ শেষ হবার আগেই আসছে বিষাদের খবর। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা ছাপিয়ে গেছে সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা। ঈদের ছুটিতে সড়ক কেড়ে নিয়েছে ৪৫ জনের প্রাণ। ঈদ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সড়কে নিভেছে ২৬ প্রাণ। এসব খবর জাতীয় পত্রিকার। আর নাটোর ও সিরাজগঞ্জসহ ১০ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ জনের মৃত্যুর খবর ছাপা হয়েছে স’ানীয় পত্রিকায়।
এবারে ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সড়কে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা। গত ঈদুল ফিতরে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪২ জন নিহত ও ৩২৪ জন আহত হয়েছেন বলে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও ৰয়ৰতি কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।
অথচ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানাবিধ উদ্যোগ-আয়োজনের কমতি নেই। কিন’ কার্যকর পদৰেপের দেখা মিলছে না। সড়ক-মহাসড়কে মুখোমুখি সংঘর্ষের জন্য দায়ি যে রোড ডিভাইডার না থাকা সেটা না বললেও চলে। আর ধারণ ৰমতার তুলনায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপও অনেক সময় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠে, বিশেষ করে ঈদের সময়, এটা খালি চোখেই ধরা পড়ে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামাল দিতে বাড়তি ট্রিপ দিতে বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, অনুপযুক্ত গাড়ি ও অদৰ চালকের আধিক্য, হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশের জনবল সংকট ও দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা-অবহেলা, গাড়ির বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং, সড়ক-মহাসড়কে বড়-ছোট, দ্র্বত ও ধীর গতির গাড়ির আধিক্য, দৰও প্রশিৰিত চালকের অভাব ইত্যাদি বিষয়গুলোর কথা কারও অজানা নয়। তারপরও সমাধানের গরজ দেখা যায় না। এটাকে আধুনিক সড়ক ব্যবস’াপনার দুর্বলতা, না অভাব বলা যায় সেটা ভেবে দেখার বিষয়।
গণ পরিবহণ যদি ত্র্বটিপূর্ণ এবং চালক যদি অদৰ-অপ্রশিৰিত হয় তবে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকবেই। সড়ক নির্মাণ ত্র্বটিপূর্ণ আর ব্যবস’াপনার অভাব থাকলে যত কথাই বলা হোক বা ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া হোক, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ হবে কি ভাবে? এমন অবস’া তো নতুন নয়!
নিরাপদ সড়কের দাবিতে তর্বণ-শিৰার্থীদের রাস্তা কাঁপানো আন্দোলনেও যদি সংশিৱষ্টদের ঘুম না ভাঙে তবে বলার কিছু থাকে না। সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত, ৰয়ৰতি কমাতে হলে এমন অবস’ার পরিবর্তন অপরিহার্য। যে কোনোভাবে সড়ক ব্যবস’াপনা ও যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে হবে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। এভাবে দুর্ঘটনার নামে হত্যা চলতে পারে না।