রাজশাহীসহ দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আবারও বাড়তে শুর্ব করেছে। ঈদের পরের ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন ডেঙ্গু রোগী। সারাদেশে এই সংখ্যা এক হাজার ৮৮০ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই ৭৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঈদের তিন দিনের ছুটিতে মারা গেছেন ১০ জন ডেঙ্গু রোগী। রাজশাহীতেও একজন মারা গেছেন। যিনি ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসেছিলেন। অসুস’তা বেড়ে গেলে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস’ায় মারা গেছেন। এখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩১ জন। অনেক রোগী বেড না পেয়ে মেঝেতে ঠাঁই নিয়েছেন।
ভ্যাপসা গরম আর থেমে থেমে বৃষ্টিতেই এডিস মশা প্রজননের উপযুক্ত ৰেত্র তৈরি করেছে। বাসাবাড়ি, দালান কোঠার ভেতরে বা বাইরে যে কোনো পাত্রে কয়েকদিন পানি জমে থাকলেই সেখানে এডিসের বংশবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে। এমনিতেই এডিসের উপসি’তি প্রায় সর্বত্রই। এই মশা ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ানোর পর অন্য কাউকে কামড়ালেই তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারেন। তাই মশা নিধনের পাশাপাশি এডিসের বংশবৃদ্ধির স’ান ধ্বংস করা জর্বরি। জমে থাকা পানি অপসারণে ব্যক্তি, সমষ্টি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের বিকল্প নেই। আর ডেঙ্গু রোগীকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে সেটাও নিশ্চিত করতে সবারই সতর্ক দৃষ্টি রাখা উচিত।
ডেঙ্গু নিয়ে জাতীয়ভাবে এত হইচইয়ের পরও খোদ রাজধানীতে এডিস মশার উপসি’তি নিয়ে আশঙ্কাজনক খবর প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল, বাস টার্মিনাল, বিআরটিসি বাস ডিপো, পুলিশ লাইনসহ বস্তি এলাকায় এডিস মশার ঘনত্ব কোনো কোনো ৰেত্রে ১০০ ভাগেরও বেশি পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর ৫০ থেকে ৮০ শতাংশেরও বেশি পাত্রে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভা। সরকারের নাকের ডগাতেই যদি পরিসি’তি এমন থেকে যায় তবে মফস্বলের অবস’া অনুমান করা কঠিন নয়। আমাদের রাজশাহীতেও পরিসি’তি ভিন্ন কি-না সেটাও নিশ্চিত হওয়া দরকার।
এখন রাজধানী থেকে ডেঙ্গু সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বত্র সমন্বিতভাবে কার্যকর পদৰেপ নেয়া জর্বরি হয়ে উঠেছে। এ ৰেত্রে অবহেলা ডেঙ্গু রোগী ও এতে মৃতের সংখ্যাই বাড়িয়ে তুলবে। বাড়বে জনদুর্ভোগও। পরিসি’তি তেমন হওয়ার আগেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করাই সবার কাম্য।