স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ (সদর) বহরম হাউসনগর এলাকার গোলাম নবীর ছেলে আব্দুল মালেক। এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২১ জন ডেঙ্গু রোগী। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩১ জন। এরমধ্যে অনেক রোগী বেড না পেয়ে ওয়ার্ডের মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
রামেক হাসপাতাল উপ-পরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সসহ অন্যান্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যনত্ম রামেক হাসপাতালে ২১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর ৬ জন রোগী সুস’ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এছাড়াও আব্দুল মালেক নামে একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। গত সোমবার ভোর ৫টা দিকে আশংকাজনক অবস’ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে তাৎড়্গণিকভাবে আইসিইউ’তে ভর্তি করা হয়। এরপর দুপুরে তার মৃত্যু হয়। উপ-পরিচালক আরও বলেন, আব্দুল মালেক ঢাকাতেই ডেঙ্গু রোগে আক্রানত্ম হয়েছেন। ঈদ উপলড়্গে তিনি বাড়িতে এসে গুরম্নতর অসুস’ হয়ে পড়েন। বর্র্তমানে হাসপাতালে মোট ১৩১ জন রোগী হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড ২৫ ও ডেঙ্গু কর্ণারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে গত সোমবার থেকে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যনত্ম ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন ১১৬ জন। এরমধ্যে সুস’ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ জন রোগী। পরে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ জন ডেঙ্গু রোগী সুস’ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাবসা গরম ও থেমে থেমে বৃষ্টির এই মৌসুম এডিস মশা প্রজননের ড়্গেত্রে উপযুক্ত সময়। এ সময় যে কোন ধরনের পাত্রে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অথবা এসির পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং বংশবৃদ্ধি করে। কয়েক প্রকার মশার মধ্যে একমাত্র এডিস ইজিপথিয়া মশাই ডেঙ্গু রোগ বহন করতে সড়্গম। তবে এডিস মশা কামড়ালেই ডেঙ্গু রোগ হয় না। এডিস মশা যখন কোন ডেঙ্গু রোগীকে কামড়ায় তখন সে নিজেই ডেঙ্গু জীবাণুর বাহক হয়। এরপর ওই মশা যে কাউকে কামড়ালে তিনি ডেঙ্গু রোগে আক্রানত্ম হন।
উলেস্নখ্য, রামেক হাসপাতালে শুরম্ন থেকে গতকাল পর্যনত্ম ৩৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং বর্তমানে ১৩১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিরা সুস’ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।