স্টাফ রিপোর্টার: যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজশাহীসহ সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। গত সোমবার মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হয়।
রাজশাহীতে ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে কোরবানি থেকে শিক্ষা নিয়ে সবাইকে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত সোমবার সকাল ৮টায় রাজশাহীর হযরত শাহমখদুম (র.) কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের এই প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ইমামতি করেন নগরীর জামিয়া ইসলামীয়া শাহমখদুম (র.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা মো. শাহাদত আলী। তার সহকারী হিসেবে ছিলেন নগরীর হেতেমখাঁ বড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. ইয়াকুব আলী। বয়ান করেন জামিয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নাজমুল হক। তাকে সহায়তা করেন মুফতি ক্বারি রেজাউল করিম।
মাওলানা নাজমুল হক তার বয়ানে বলেন, ত্যাগের এক মহান দৃষ্টানত্ম কোরবানি করা। পশু কোরবানি করা হয় শুধুমাত্র মহান আলস্নাহর সন’ষ্টি কামনায়। কোরবানির এই ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার দিনে ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হওয়ার জন্য সবার প্রাত উদাত্ত আহ্বান জানান।
এখানে কয়েক হাজার মুসলিস্নর সাথে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রম্নজ্জামান লিটন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মুনসুর রহমান, সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল; বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পবিত্র ঈদুল আজহার দুই রাকায়াত ওয়াজিব নামাজ আদায় করেন।
পরে তারা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এর আগে মোনাজাতে বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর শানিত্ম কামনা করা হয়। দেশ ও জাতির উন্নতি এবং সমৃদ্ধিও কামনা করা হয় মোনাজাতে। ঈদের এই প্রধান জামাতে সতর্ক অবস’ায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে দৃষ্টি রাখা হয়েছিল ঈদগাহ ও এর আশপাশের রাসত্মাগুলোর দিকে।
রাজশাহীতে সকাল ৭ টায় ঈদের দ্বিতীয় বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে নগরীর টিকাপাড়া ঈদগাহ ময়দানে। সকাল ৮ টায় রাজশাহীর অন্যতম বড় ঈদের জামাত হয়েছে নগরীর সাহেববাজার বড় মসজিদ সংলগ্ন রাসত্মায়। এখানে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়া সকাল ৭টায় নগরীর আমচত্বর আহলে হাদীস মাঠ এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রম্নয়েট) মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদ জামাত।
রাজশাহী মহানগরীর ১১৮টি ঈদগাহসহ জেলার ৯ উপজেলার শতাধিক ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের নামাজের সময় রাজশাহীর কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি। ফলে মুসলিস্নরা ঈদগাহেই ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহান আলস্নাহর দরবারে প্রয়াত বাবা-মা ও স্বজনদের রম্নহের মাগফেরাত কামনার জন্য বিভিন্ন গোরস’ানে যান এবং কবর জিয়ারত করেন। পরে তারা মহান আলস্নাহর সন’ষ্টি কামনায় পশু কোরবানি শুরম্ন করেন।
এদিকে ঈদের দিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাজশাহীর সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্বশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। গুরম্নত্বপূর্ণ স’ান ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক লেখা ব্যানার ও পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়। আর ঈদের চার দিন আগে থেকেই মহানগর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসমূহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ঈদের দিন সুবিধামত সময়ে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা, শিশু কেন্দ্র, শিশু পরিবার, শিশু পলস্নী, সরকারি শিশু সদন, ছোটমনি নিবাস, সেফ হোম এবং অনুরূপ প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। ঈদের পরের দিন সন্ধ্যায় রাজশাহী শহরের আলুপট্টি, লক্ষ্মীপুর মোড় ও সাহেব বাজারের জিরো পয়েন্টে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করে।