রেজাউল ইসলাম সেলিম, নিয়া-মতপুর (নওগাঁ) থেকে: সঠিক মনি-টরিং ও দেখভালের অভাবে নিয়া-মতপুর উপজেলায় চালু হওয়া সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানের ভলেন্টিয়ার স্টুডেন্ট ট্রাফিক ব্যবস’া ঝিমিয়ে পড়েছে। শিশু শিৰার্থীদের জন্য নিরাপদ সড়ক পারাপারে এমন একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালু হবার দেড় বছরের মাথায় তা ঝিমিয়ে পড়ায় অভিভাবকদের মনে বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। আর এজন্য অভি-ভাবকরা সংশিৱষ্ট শিৰকদের উদা-সীনতাকে দায়ী করছেন। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, সংশিৱষ্ট শিৰা প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপৰের যথাথ মনিটরিং থাকলে উদ্যোগটি আরও সফলভাবে বাস্ত-বায়িত হতে পারত।
সূত্রে জানা যায়, সারাদেশের মহাসড়কে যখন লাশের মিছিল, ঠিক তখনি ২০১৮ সনে ‘আমাদের পথ চলায় সাহায্য কর’ আবেদন নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের সহপাঠি ও শিৰার্থীদের সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে অনন্য এক ব্যতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণ করে নিয়ামতপুর উপজেলার সিরাজ-পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাব শিশুরা। যৎসামান্য প্রশিৰণ নিয়ে শিৰকের সহায়তায় স্কুল শুরুর আধ ঘণ্টা পূর্বে ও ছুটির পর ২৪ জন কাব শিশু স্কুল সংলগ্ন সড়কে উপসি’ত হয়ে শিশুদের নিরাপদ সড়ক পারাপারে (স্কুলে ঢুকতে) ভলান্টিয়ার স্কুল ট্রাফিকিং’র দায়িত্ব পালন করে তারা। হলুদ পোশাক পরে সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে শিশুদের নিরাপদ সড়ক পারাপারে কাব শিশুদের এমন ব্যতিক্রমি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহল। এ কার্যক্রমে ব্যস্ততম সড়ক পারা-পারে অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত হয় শিশু শিৰার্থীরা।
পরবর্তীততে উপজেলার রোড সংলগ্ন ৫৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কাব দল), ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (স্কাউটস) ও ৩টি কলেজে (রোভার স্কাউটস) এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। উপজেলা প্রশাসনের পৰ থেকে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের ভলান্টিয়ার স্টুডেন্ট ট্রাফিক দলকে হলুদ পোশাক ও বাঁশি সরবরাহ করা হয় এবং জেলা থেকে একজন ট্রাফিক সার্জেন্টকে এনে স্বল্পকালীন প্রশিৰণ দেয়া হয়। উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে (ইউআরসি) শিৰকদের এক প্রশিৰণে সকলকে উদ্ভাবনী পরিকল্পনায় আগ্রহী করতে প্রয়ো-জনীয় কিছু বার্তা নিয়ে উপসি’ত হন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (বর্তমান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, দিনাজপুর) আবু সালেহ মো: মাহফুজুল আলম। তিনি সরকারের ইনোভেশনের উপর গুরুত্ব জোরদার করতে কিছু ব্যতিক্রমি উদ্ভাবনী আইডিয়া চান শিৰকদের কাছ থেকে। যেটা দেশ, সমাজ এমনকি শিশুদের কল্যাণ বয়ে আনবে। ওই প্রশিৰণ কর্মশালায় কাব দল দিয়ে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে নিরাপদে সড়ক পারাপারের আই-ডিয়াটি উপস’াপন করেন সিরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিৰক রেজাউল ইসলাম। নির্বাহী অফিসারের এ আইডিয়াটি যুক্তিসঙ্গত ও যুগোপযোগী মনে হলে তিনি ওই শিৰককে তার বিদ্যালয়ে প্রথমে পরীৰামূলক তা বাস্তবায়নের কথা বলেন। পরবর্তীতে যা উপজেলার সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়িত হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা বিভাগ ২৫ জুলাই অনুরূপ একটি পরিপত্র জারির মাধ্যমে দেশের সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ রাস্তা পারাপারের নির্দেশনা দিয়েছে যা নিয়ামতপুরে অনুরূপ কার্যক্রম দেড় বছর ধরে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রাথমিক শিৰা অধিদপ্তর থেকেও এমন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য পরিপত্র জারি করলে দেশের সকল প্রাথমিক শিৰার্থীদের নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত হত।
ভলান্টিয়ার স্টুডেন্ট ট্রাফিক কার্যক্রম বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও জয়া মারীয়া পেরেরা এ কার্যক্রমের সাথে জড়িত সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ নিবেন এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে কথা বলে ঝিমিয়ে পড়া ভলা-ন্টিয়ার স্টুডেন্ট ট্রাফিক কার্যক্রমটিকে নিয়মিত করতে প্রয়োজনীয় ববস’া গ্রহণ করবেন বলে জানান।