সোনালী ডেস্ক: নওগাঁ, নাটোর ও বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও এএসপিসহ ৩২ জন আহত হয়েছেন।
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, মান্দায় যাত্রীবাহী একটি ভুটভুটি উল্টে আকলিমা বেগম (৩০) নামে ১ নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে দেলুয়াবাড়ি-চৌবাড়িয়া রাসত্মার নিচ মহানগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহতের স্বামী রফিকুল ইসলাম (৩৬), মেয়ে রিমা আক্তার (১২) ও ছেলে আব্দুলস্নাহ (২) আহত হয়েছেন। আহত রিমা আক্তার ও আব্দুলস্নাহকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের বাবা রফিকুল ইসলাম স’ানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন। হতাহতরা রাজশাহীর তানোর উপজেলার মালশিরা গ্রামের বাসিন্দা ও একই পরিবারের সদস্য।
পুলিশ ও প্রত্যড়্গদর্শিরা জানান, নিহত আকলিমা বেগম সপরিবারে এক আত্মীয়ের বাসায় ঈদের দাওয়াত খেয়ে দেলুয়াবাড়ি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ভটভটিতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে উলেস্নখিত স’ানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভুটভুটিটি রাসত্মার পাশে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস’লেই আকলিমা বেগম নিহত হন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন।
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, ঈদের দিন সন্ধ্যায় রুবেল (২২) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়-য়া শিড়্গার্থী তার মোটর বাইকটি নিয়ে সাপাহার উপজেলা সদর হতে বাসায় ফিরছিল। পথে উপজেলার জবই বিলের উপর নির্মিত ব্রিজ পার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এসময় তার মোটরবাইকে থাকা তার বন্ধু সোহেল রানাও (২১) মারাত্মক আহত হয়। বাসায় ঈদের আনন্দ মস্নান করে রাতেই তাদের লোকজন তাদেরকে নিয়ে রাজশাহী মেটিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে পর দিন মঙ্গলবার সকালে রুবেলের মৃত্যু হয়। নিহত রুবেল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিড়্গার্থী ও উপজেলার মুংরইল গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে এবং তার বন্ধু সোহেল রানা একই গ্রামের ফইমুদ্দীনের ছেলে। সোহেল রানা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি জানান, ধামইরহাটে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় চকময়রাম মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যড়্গদর্শিরা জানান, ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে চকময়রাম গ্রামের শহিদ হাসানের বাড়ির কাজের লোক মইশড় গ্রামের কিনা ম-লের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৬৫) কাজ শেষে নিজ বাড়ি যাওয়ার সময় উপজেলার পৌর সদরস’ চকময়রাম সোনার বাংলা ক্লাবের সামনে পাকা রাসত্মায় পৌঁছলে একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দিলে মোহাম্মদ রাসত্মায় পড়ে যায়। এতে তার বুকে রক্তড়্গরণ ও বমি হলে স’ানীয়রা মোটরসাইকেল চালক বড়শিবপুর গ্রামের মাজহারম্নল ইসলামের ছেলে মানিককে সহ হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলীকে মৃত ঘোষণা করে। ধামইরহাট থানার ওসি জাকিরম্নল ইসলাম ঘটনাস’ল পরিদর্শন করেছেন। মৃতের ছেলে আনিছুর রহমান লাশ নিজ জিম্মায় গ্রহণ করে এবং তারা কোন মামলা করবেন মর্মে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। মৃত মোহাম্মদ আলীর জন্মস’ান পাঁচবিবি উপজেলার আইমা রসুল গ্রামে। বিয়ের পর তিনি ধামইরহাট ইউনিয়নের মইশড় গ্রামেই বসবাস করতেন।
বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বড়াইগ্রামে পুলিশ পিকআপের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শাহজাহান আলী (৪৫) নামে ১ ব্যক্তি নিহত ও এডিশনাল এসপিসহ ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে উপজেলার মহিষভাঙা চৌরাসত্মা এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহজাহান আলী মুন্সিগঞ্জ সদরের কাচারিঘাট গ্রামের মৃত ঈমান আলীর ছেলে। তিনি মাইক্রোবাসের চালক ছিলেন। যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে তিনি খালি মাইক্রোবাস নিয়ে মুন্সিগঞ্জ ফিরছিলেন। দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ, তাকে বহনকারী পিকআপের চালক কনস্টেবল মোবারক হোসেন ও দেহরড়্গী ইব্রাহিম খলিল। বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল পৌনে ৭টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হারুন-অর রশিদ সরকারি পিকআপে করে পেশাগত কাজে বনপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে মহিষভাঙা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসের সঙেগ পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস’লেই মাইক্রোবাসের চালক শাহজাহান নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পিকআপের চালক ও দেহরড়্গীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে হাসপাতালে যান। বনপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই মাহফুজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাস ও পিকআপটি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নেয়া হয়েছে।
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন কমপড়্গে ২৫ জন কোচ যাত্রী। বুধবার দুপুরে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শাহজাহানপুর উপজেলার আড়িয়াবাজার এলাকায় ২টি কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, রংপুর সদরের কামাল কাচনা গ্রামের আব্দুলস্নাহ্‌ আল কাফির পুত্র খায়রুল আলম যাদু (৫৫) ও তার স্ত্রী রানু বেগম (৪৫)। অপর নিহত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি বাসচালক বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রংপুর সদরের মেলাবর গ্রামের পরিমলের স্ত্রী মিনতী (৪০), রংপুর ঘোড়াঘাট থানার কানাগাড়ী গ্রামের সুবিদের মেয়ে সুলতানা (৪৫), গঙগাচড়া থানার পাকুরিয়া গ্রামের আব্দুল বাতেনের পুত্র সাব্বির (৩২), নিহত খায়রুল আলম যাদুর পুত্র এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র মিরাজ ও ৪র্থ শ্রেণিতে পড়-য়া মেয়ে জান্নাতী খাতুন। অপর আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহত খায়রুল আলম যাদুর পুত্র আহত মিরাজ জানায়, তার মা রানু বেগম ঢাকা কেরানীগঞ্জ তেলখানা এলাকায় আইডিয়াল প্রিপ্যারেটরি স্কুলে শিড়্গকতা করেন। মা-বাবার সাথে ঢাকাতেই তারা থাকে। ঈদের ছুটিতে সবাই একসাথে বাড়ি ফিরছিল তারা।
পুলিশ ও প্রত্যড়্গদর্শি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা পৌনে ২টার দিকে দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আহাদ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি যাত্রীবাহী কোচ (ঢাকা মেট্রো-ব-১৩-০৪০৭) বগুড়ার শাহজাহনপুর উপজেলার আড়িয়াবাজার এলাকায় পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী একটি শ্যামলী পরিবহনের কোচ নং (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৪০৪৫)এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মহিলা ও শিশুসহ কমপড়্গে ২৮ জন যাত্রী আহত হয় হয়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে গাড়ির চালক ও স্বামী স্ত্রী মারা যায়। ঘটনার পর পরই খবর পেয়ে বগুড়া ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতদের মধ্য কমপড়্গে ৫ জনের অবস’া আশংকাজনক।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি সার্বিক) আজিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রম্নত ঘটনাস’লে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মহাসড়কে যান চলাচলা স্বাভাবিক করা হয়। আহতদেরকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে মহিলাসহ ৩ জন মারা যায়। দুর্ঘটনা কবলিত কোচ দুটি থানায় আটক রয়েছে।