স্টাফ রিপোর্টার: শ্রাবণ মাসের শেষে এসে রাজশাহীতে টানা বর্ষণ শুরম্ন হয়েছে। এতে ঈদ উৎসবে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে এই বৃষ্টি আমন ও সবজি চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
ঈদের দিন সকাল থেকে বৃষ্টি শুরম্ন হয়েছে এই অঞ্চলে। শ্রাবণ শেষে বর্ষণমুখর হয়ে উঠেছে রাজশাহী। টানা তাপদাহ আর তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টিতে স্বসিত্ম ফিরেছে ঠিকই, তবে বিড়ম্বনারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে ঈদ আনন্দে পড়েছে ছেদ।
শিকড়ের টানে ফেরা মানুষের জন্য ঈদের দিন থেকেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। শেষ পর্যনত্ম ঘটলোও তাই। কখনও রোদ, কখনও মেঘ, আবার কখনও বৃষ্টি। এভাবেই কেটেছে ঈদুল আজহার সকাল-সন্ধ্যা। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের রেইন গেজ (বৃষ্টি পরিমাপক যন্ত্র) বলছে, ওইদিন ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। এতে এক রকম ভালোই হয়েছে। একদিকে কমিয়েছে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে কোরবানির রক্ত ও বর্জ্য গেছে ধুয়ে মুছে।
এরপর ঈদের দ্বিতীয় দিন (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আবারও বৃষ্টি শুরম্ন হয়। এরপর থেকে থেমে থেমে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি কখনও মুষলধারে বৃষ্টি চলে সন্ধ্যা পর্যনত্ম। এদিন ১৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে মহানগরীর সড়কের অনেক স’ানে ও নিচু এলাকায় পানি জমে যায়। রাসত্মায় রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল কম থাকায় ঈদ বিনোদনের জন্য বাইরে যেতে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ।
গতকাল বুধবার ভোর থেকে আবারও শুরম্ন হয়েছে বর্ষণ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে তাই অনেকটাই গৃহবন্দী হয়ে পড়ে রাজশাহীবাসী। বৃষ্টিতে মহানগরীর শহিদ এএইচএম কামারম্নজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, জিয়া শিশু পার্ক, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী পার্ক, পদ্মাপাড়সহ মহানগরীর বিনোদনকেন্দ্রগুলোও সকালে প্রায় ফাঁকা ছিল। গতকাল বিকেলে বৃষ্টি না থাকায় মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে বিনোদন কেন্দ্রগুলো।
এদিকে, কয়েকদিন টানা তাপদাহের পর এই বৃষ্টিতে স্বসিত্ম ফিরেছে চাষিদের মাঝে। অনেকেই এই বৃষ্টির পানিতে আমন চারা রোপণ করছেন। কৃষিবিদরা বলছেন, এই বৃষ্টি আমন ও সবজি খেতে সেচের কাজ করেছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, ১২ আগস্ট ঈদের দিন সকাল থেকে বৃষ্টি শুরম্ন হয়েছে। এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি চলছেই। ঈদের দিন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বুধবার বিকেল ৪টা পর্যনত্ম রাজশাহীতে ৫২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৯ মিলিমিটার, মঙ্গলবার ১৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং গতকাল বুধবার ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যনত্ম ২৬ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স’ানে বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স’ানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বার্তায় বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। ফলে সমুদ্র উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স’ানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, লঘুচাপের কারণে দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস’ায়ী দমকা ও ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। এই অবস’া চলতে পারে আরও কয়েকদিন।