সোনালী ডেস্ক: মুসলমানদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় জমায়েত ও অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরম্ন হয়েছে গতকাল শনিবার। সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরিহিত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলিস্নর কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, ‘লাব্বাইক, আলস্নাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাকা (আমি হাজির, হে আলস্নাহ আমি হাজির, আপনার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু আপনারই, সব সাম্রাজ্যও আপনার, আপনার কোনো শরিক নেই)।
গতকাল শনিবার ফজরের নামাজ আদায় করে মিনা থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে পৌঁছান হাজিরা এবং সেখানে সূর্যাসত্ম পর্যনত্ম অবস’ান করবেন তাঁরা। আরাফাতের ময়দানে অবস’ান করাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর হাজিরা সেখান থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে মুজদালিফায় গিয়ে রাতযাপন ও পাথর সংগ্রহ করবেন। ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করে মুজদালিফা থেকে মিনায় ফিরবেন। হাজিরা শয়তানকে উদ্দেশ্য করে পাথর নিক্ষেপ করবেন, কোরবানি দেবেন ও মক্কায় গিয়ে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন। তাওয়াফ, সাই শেষে আবার মিনায় ফিরে ১১ ও ১২ জিলহজ (সৌদি আরবের তারিখ অনুযায়ী) পর্যনত্ম অবস’ান করবেন।
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ১০ জিলহজ মিনায় প্রত্যাবর্তনের পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়-শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ, আলস্নাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি (অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন), মাথা মু-ন বা চুল ছাঁটা এবং তাওয়াফে জিয়ারত। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ অবস’ান করে প্রতিদিন শয়তানকে তিনটি করে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপ করবেন হাজিরা। সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
এর আগে সারা পৃথিবীর লাখ লাখ মুসলমান বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর নিজ নিজ আবাস এবং মসজিদুল হারাম থেকে ইহরাম বেঁধে মক্কা থেকে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করেন। এর মাধ্যমে সূচনা হয় মুসলমানদের সর্ববৃহৎ বিশ্বসমাবেশ ও অন্যতম ফরজ ইবাদত পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। মিনায় যাত্রার মধ্য দিয়ে হজ পালনের সূচনা হয়, যা শেষ হবে ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করে।